ভালবাসার শ্রেনিবিন্যাস
- বিচিত্র বিশ্বাস নীল - ভালবাসার পংক্তিমালা

নীলান্তি, কাল রাতে তুমি অভিযোগ করেছিলে
আমি তোমাকে নাকি আগের মত আর ভালবাসি না।
ভর দুপুরে রিক্সায় উঠে রাজপথে চুমু খাই না।
পার্কের বেঞ্চিতে জাপটে ধরে বসে থাকি না।
.
আচ্ছা নীলান্তি,
দিনের আকাশে কখনো চাঁদ দেখেছো?
তাই বলে সাধ্য কার যে চাঁদকে অস্বীকার করে?
নীলান্তি, এই যে তুমি রান্না করবে জেনেও জিজ্ঞেস করছি-
তুমি রান্না করেছো কিনা?
দুপুরে খাবে জেনেও জিজ্ঞেস করছি-
তোমার খাওয়া হয়েছে কিনা?
একটুও অনিয়ম করিও না কিন্তু।
ডাক্তার দেখাবে জেনেও জিজ্ঞেস করছি-
ডাক্তার দেখিয়েছো তো? ওষুধ ক্ষেতে ভুলো না আবার।
ফেরার পথে জিজ্ঞেস করছি-
মরিচ,তেল,লবন লাগবে কিনা?
রাতও আমায় আটকাতে পারেনি। রাতেও ঠিক জিঙ্গেস করেছি-
কবে পার্লারে যাবে গো? রুক্ষ লাগছে তোমায়।
এই শুনছো তো তুমি?
এবার ভেবে বলনা এসব কি ভালবাসা নয়?
শুধু কি সঙ্গমের দাগ নিয়ে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে থাকাই ভালবাসা হয়.?
চোঁখে চোঁখ রাখা, হাতে হাত রাখা, নিঃশ্বাস দূরত্বে বসা, কল্পনার রাজ্যে হাড়িয়ে যাওয়া, বুকেতে জড়িয়ে একটু আদর করা, কপালের মাঝখানে আলতো করে চুমু খাওয়া, কখনো বা একটু আধটু দুষ্টুমি,
সংসারের টুকিটাকি নিয়ে একটুখানি অভিমানী ঝগড়া, সে কি ঢের ভালবাসা নয়.?
.
নীলান্তি, কিছুটা ভালো আমাকেও বাসো তুমি।
জিজ্ঞেস করো-
তোমার চোঁখে এতো দুশ্চিন্তার ছাপ কেন?
কাঁধে হাত রেখে বলো-
এই “নীল” ভয় কি তোমার? দেখো আমিতো আছি।
জানোতো ভালবাসা বড়ই অভিমানী। ভালবাসা ছাড়া সে বাড়ে না কখনই।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।