রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
- আবু জাফর বিশ্বাস
২৪এপ্রিল ২০১৩সালের এ’দিনে ঘটেছিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি,
সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক ধ্বংসস্তুপে, বিভীষিকাময় পরিস্থিতি।
প্রতিদিনের মত সেদিনও সবাই নিজ নিজ কাজে ছিল ব্যস্ত,
হঠাৎ গগণবিদারী আর্তনাদ ৮তলা ভবনটি হলো বিধ্বস্ত।
মনে উঠতেই আঁতকে ওঠে আটকে পড়া মানুষের বাঁচার আঁকুতি,
বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার আর্তনাদ, হৃদয় বিদারক অনুভূতি।
গার্মেন্টস্ শ্রমিকের রক্তে লাল হয়ে যায় এলাকার সব রাস্তাঘাট,
লাশের পর লাশের স্তূপ, ভরে যায় ‘অধর চন্দ্র হাইস্কুল মাঠ’।
মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে ৫দিন ধরে বাঁচার সংগ্রামে শাহিনা,
উদ্ধারকর্মিদের পায়ে ধরে বলেছিল ভাই আমাকে ছেড়ে যেও না।
বাপহারা আমার দেড় বছরের সন্তান রবিন কাঁদছে, ও দুধ খাবে,
সবার কাছে আকুতি জানায় রবিনের জন্যই আমাকে বাঁচতে হবে।
৫দিন বেঁচে থেকেও সুড়ঙ্গপথে লাগে আগুন উদ্ধারের আগ মুহূর্ত,
শাহিনাকে উদ্ধার করতে গিয়ে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী হলো অগ্নিদগ্ধ।
কায়কোবাদসহ দু’জন উদ্ধারকর্মির নিভে গেলো জীবনের স্পন্দন,
শোকার্ত স্বজনের আহাজারি বাতাস হলো ভারী, সবার চোখে ক্রন্দন।
শাহিনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা, আর কায়কোবাদের উৎসর্গ প্রাণ;
এক নিমিষে দেড় বছরের রবিন পরিনত হয়েছিল সারাদেশের সন্তান।
১৭তম দিন পর, দোতলা থেকে জীবিত উদ্ধার হয় মৃত্যুঞ্জয়ী রেশমা,
মৃত্যুকূপের অন্ধকারে ১৭দিন অনাহারে, সৃষ্টি হলো ইতিহাসের উপমা।
....................
২৪/০৪/২০১৪
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।