বিজয়
- শরিফুল ইসলাম

বাংলার উঠোন জুড়ে যখন ছিল কৃঞ্চ কালো মেঘের ছায়া
বাংলার গগন জুড়ে যখন উঠেনি পূর্বে ঝলমলে সূর্য
বাংলার বাতায়নে যখন উঁকি দেয়নি এক ফালি চাঁদ
ঠিক তখনই কবি তার কবিতা খানি করিলেন পাঠ।
“এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”
এই মুক্তির উন্মাদ নেশায় ছিড়েছিল মায়ের কলিজা
ভেঙেছিল বাবার বুকের পাঁজর
মৃত্যুর স্রোতে ভেসেছিল নব বধূর যৌবন
বাংলার বুক চিরে বয়েছিল ঝাঁঝাঁলো রক্তের ঝর্ণা ধারা।
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল বাংলার আকাশ
কেঁদেছিল পশুপাখি আর তরুলতা
স্তব্ধ হয়েছিল বাংলার ভারি বাতাস।
দমকা হাওয়ায় ছিড়েছিল নাবিকের তোলা জাহাজের পাল
উত্তাল সমুদ্রের গর্জনে পাহাড়ের মত ঢেউ এসে ভেঙেছিল হাল।
তেজ দীপ্ত দৃঢ়তায় বাঙালী দুর্দমনীয় দুর্জেয় উঁচু শিরে
কাঁস্তে কোদাল হাতুড়ী শাবল সম্বল নিয়ে
রক্তের ভিত্তি গড়েছিল বাংলাকে ঘিরে।
সাদা কাফন মাথায় বেঁধে বেরিয়ে এসেছিল জননীর নাভিমূল ছিড়ে
একটি পতাকার জন্য,
লক্ষ লক্ষ বিদ্রোহী বাঙালী ঝাপিয়ে পড়েছিল মৃত্যু কূপে
মা অপেক্ষা করেছিল সন্তান ফিরবে পতাকা নিয়ে
নদী পুকুর ডোবায় পঁচা লাশের গন্ধ ভেসেছিল বাতাসে
ঝোপঝাড়ের অন্তরালে মিলেছিল ধর্ষিত বোনের লাশ
বাঙ্গালী তবুও থামেনি, মাথা নত করেনি
বুকে বেঁধেছিল মাইন, কপালে বেঁধেছিল মায়ের আঁচল,
কোমরে বেঁধেছিল বাবার গামছা, চোখে ভেসেছিল রক্তাক্ত বোনের দেহ
কানে বিঁধেছিল মেয়ের বিলাপে মায়ের বিভৎস চিৎকার
কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছিল শ্রমিক

মুক্তির দীপ্ত নেশায় বেরিয়ে এসেছিল
কৃষক, মজুর যুবক যুবতি অফিসার থেকে কেরানী
বেরিয়ে এসেছিল অবাল বৃদ্ধ নর-নারী
এক হাতে মৃত্যু. এক হাতে পতাকা, দু’চোখ ভরা স্বপ্ন
কে রোধে আর বাংলার স্বাধীনতার।
কেটে গেল নয়টি মাস, রচিত হল একটি ইতিহাস
হারিয়ে গেল লক্ষ লক্ষ প্রাণ, ফিরে এল মা মাটির মান
এল ষোলই ডিসেম্বর, এল একটি পতাকা, একটি স্বাধীনতা
একটি বিজয়

১০।১২।২০১৭ গাজীপুর


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।