সেই শ্রাবন
- বিচিত্র বিশ্বাস নীল - নীল কাব্য

সেদিন ছিল শ্রাবনের ইলশেগুঁড়ি। বিদ্যালয়ের পেছনের আমগাছটার নিচে দাঁড়িয়ে ছিল আমার প্রিয়া। একা দুটি বই হাতে আমার প্রতিক্ষায়। আমি ছাতা মাথায় হাজির হলাম প্রিয়ার সম্মুখে। অন্য দিনের মত সেদিন সে বলেনি, “কেমন আছ?” সামনে সেই নীলকুমোরে ভেসে চলছে হাজারো পত্রতরী। প্রিয়ার নজর সেদিকেই। আম্র পাতার জলে সিক্ত প্রিয়ার সে কি অভিমান! আমি অপরাধীর মত দাঁড়িয়ে ছিলাম মাত্র। অবশেষে ভুলের মাসুল দিতে ছাতাটা বন্ধ করে দাঁড়ালাম প্রিয়ার মুখোমুখি। কিন্তু, কি আশ্চার্য! কোথায় গেল সেই অভিমানের মেঘ? হাতের সেই দু’খানি বই ধরলো আমার মাথার উপরে। আমি দেখলাম প্রিয়ার হরিণীর মত মায়াবী চোখ বেঁয়ে পড়ল দু’ফোঁটা অশ্রু। সেদিন কথা বলতে পারি নি। কথা বলে নি আমার প্রিয়াও। বলে নি পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক বাক্যটি। অথচ সেদিন প্রিয়ার চোখে যে ভালবাসা খুঁজে পেয়েছিলাম তা প্রকাশ করার মতো ভাষা পৃথিবীতে নেই। ভালবাসার সেই মুহূর্ত আমার মানসপটে চিত্রিত রবে চিরদিন। এখন হয়তো সেই আমগাছ নেই, সেদিনের সেই বৃষ্টি নেই। দেয়ালের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুরা নেই। প্রাচীন সেই ধূসর দেয়ালও নেই। আর দেয়ালে লেখা আমার প্রিয়ার নামটিও নেই। এখনও হয়তো নীলকুমোরে ভেসে চলে অজস্র কিশোর-কিশোরীর প্রেমের তরী। কিন্তু তার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আমার প্রিয়া নেই। হয়তো সেখানে পড়ে থাকা কোন পাতায় খুঁজে পাব না প্রিয়ার লেখা দুটি কবিতার লাইন। কখনো সেই শ্রাবনের দিনটাও ফিরে পাব না। ফিরে পাব না সেই শ্রাবন দিনের প্রেম। কিন্তু, সেই ভালবাসাটুকু......! সেই ভালবাসাটুকু কখনোও শেষ হবে না। সেটুকু রয়ে যাবে পরানের গহীনে..!!


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।