কাছের মানুষ
- শেখ মাফিজুল ইসলাম
ঢালা বিছানায় বই পড়তে পড়তে
ভুল উচ্চারণ করলে মা ধমক দিয়ে বলতেন,
‘চোখে দেখিস না, ভুল পড়িস ক্যান?’
সেই মা আমার নিজেই চোখে ঝাপসা দ্যাখেন।
দাদুর কাঁধে চ’ড়ে সার্কাস দেখতে গেছি
ছোট্ট বেলার জোকারের কথা আজো মনে পড়ে;
কাঁধে চ’ড়ে মাঠ ঘুরেছি, পাড়া বেড়িয়েছি
দেখেছি রথের মেলা, বৈশাখী মেলা
অটুট হ’য়েছে সম্পর্কের বন্ধন।
এ-নিয়ে রসালো টিপ্পনীও শুনতে হয়েছে।
সেই দাদুকে কাঁধে চড়িয়ে রেখে এসেছি
মাটির বুকের তলে।
সাবধান-বাণী শুনতে শুনতে কতবার
বাবার হাত ধ’রে পার হয়েছি ব্যস্ততম রাস্তা
সেই বাবা আমার লাঠিতে ভর দিয়ে রাস্তা
পার হ’ন, লাঠিটাই এখন ‘অন্ধের যস্ঠি’।
দাদি বলতো, ‘রাস্তায় যখন হাটিস মাথা উঁচু
করে আর নিজের দো-চালা ঘরে যখন ঢুকিস
মাথা নিচু করে ঢুকিস-এটা মানায় না,
বাড়ি বানা, দালান বাড়ি।’
মাথা নিচু করে বললাম- মাথায় তিনবার
ফুঁ-দিয়ে দোয়া করে দাও;
বাড়ি হয়েছে কিন্তু ফিতে কাটার সৌভাগ্য
হয়নি দাদির; তার নিজের কাছে নিজের
শরীরটায় বড়ো বোঝা; নড়তে-চড়তে পারেন না।
মাঝেমাঝে কাঁদেন আর বলেন-‘মাটি দেয়ার সময়
কবরের পাশে থাকিস।’
এখন বুঝি- নতুন বাড়িতে পুরনো মানুষ
কতো প্রয়োজন।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।