অতি লোভে তাঁতি নষ্ট
- শেখ মাফিজুল ইসলাম

ছোট্ট সরু নদীর ধারে হাফিজ মিয়ার বাড়ি
জানলায় এসে রোদ ডাকলে উঠতো তাড়াতাড়ি।
ছেল-মেয়ে পড়তে যেতো গিন্নীর আদর পেয়ে
খামারবাড়ির কাজকর্ম দেখতো নিজেই গিয়ে।
রোদ ঝলমল মুখের হাসি সদায় লেগে থাকতো
যক্ষেরধন পাওয়ার আশা মনে পুষে রাখতো।

এক দিন এক বিজ্ঞ মশায় বললো, ‘হাফিজ জানো,
হীরার মূল্যে শহর পাবে, দেশও পাবে,
আমার কথা মানো’
রাতের ঘুম তার হারাম হ’লো স্বপ্ন বুনেবুনে
খামার বাড়ি বেচলো হাফিজ বিজ্ঞের কথা শুনে।

দেশান্তরী হলো হাফিজ বউ-বাচ্চা রেখে
মায়াবী হীরার হাতছানি তার নিয়ে গ্যাল ডেকে।
দেশ ছেড়েছে হীরার খোঁজে বিদেশ পাড়ি দিল
বিশ্বময় ঘুরেঘুরে এক কণাও না পেলো।
অর্থ গ্যালো, স্বাস্থ্য গ্যালো, স্বপ্ন হলো শেষ
নদীর জলে ঝাঁপ দিয়ে সে হলো নিরুদ্দেশ।

খামারবাড়ির ক্ষেতের মাঝে ছোট্ট নদীর ধারা
ওপারে যে জ্বলছে পাথর দেখে দিশাহারা।
নতুন মালিক সাঁতরে গ্যালো পাথর পেলো খুঁজে
ভোরের আলোয় পাথর টুকরো রামধনু রং সাজে।
ঘরের শোভা দেখে মালিক অবাক বনে গ্যালো
হঠাৎ বিজ্ঞ এসে বললো, ‘হীরা কেথায় ছিল’?
‘হীরা তো নয় পাথর-টুকরা ছিল নদীর পাড়ে’
চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দুইজনাতে গ্যালো নদীর ধারে।
জহুরি যে জহর চেনে সেই বললো-ঠিক
নদীর দু’পাড় হীরার আলোয় ভাসলো দিগ্বিদিক।
আত্মহারা নতুন মালিক গ’লে পড়লো হেসে
নদীর ধারায় হাফিজের লাশ উঠলো তখন ভেসে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026