খুলে দাও দ্বার-মৃত্যু নগরীর
- আদি আহমাদ সিফাত - নিস্তব্ধ নিরবতা
খুলে দাও দ্বার-এই জলে খসে পড়া মৃত্যু নগরীতে
হীমেল হাওয়া আসিবে প্রান্তরে----
নিকোটিনের আগুনে পুড়ে আজ ভষ্ম করে দাও
এই মৃত্যু নগরী,
হীমেলের পরশে মনের গরজে ভাসিয়ে দাও
বাউলের ভাঙা গলার সূর, ভূবন জুড়ে
হারিয়ে যাবে সেই সূর--
কম্পিত হবে পৃথিবী সেই সুরের আরাধনায়
হটাৎ কোনো ভোরের স্বতেজে আমি
দূর নক্ষত্রটা পেরিয়ে যাব,
আলোর মিছিল ছাড়িয়ে অন্ধকারের অস্তিত্বে
বিলীন হয়ে যাব।
তুমি এসো সেদিন-এসো হে প্রিয় হীমেল
হাওয়া,এই নিষিদ্ধ নগরীতে।
প্রাচীন মৃত্যুর দিল ভেঙ্গে ডিঙ্গিয়ে এসো
মৃত্যু নগরীর অলি গলি,,
নতুন জীবনের কপাট খুলে ঢুকে যেও
এই নিভৃত নগরীর নিরন্তর কোলাহলে
তোমার উদ্দাম আরাধনায় তছনছ করে দিও এই
অভিশপ্ত নগরীর সমস্ত জীর্ণতা।
পরিপূর্নতায় ভরিয়ে দিও
সামান্যতম নিরেট জীবন্মৃত লাশ গুলোকে
শহরের ইট,কাঠ,স্যাঁতস্যাতে শৈবাল
বিছানো দেয়ালে ছুঁয়ে দিও
তোমার সজীব পরশ।
প্রাচির খুলে দিও বল্লমের আঘাতে
বেরিয়ে আসবে-পুরোনো সব অলংকার
কোন এক নিঃসঙ্গ অবরোধ কপাট খুলে
প্রাননাশি বিষ ছিটিয়ে দিও
অষ্টমির পূর্ণ চাঁদের নিচে দাঁড়িয়ে যেদিন দুহাত
প্রসারিত করে দিয়ে গলতে থাকবে হৃদয়ের
পাথর জোৎস্নার নির্গল উত্তাপে
আমি সেদিন সে রমনীর নাক ফুলের উর্বর
সোনার ঝলকে উঠে চোখের ফাকিতে
কোয়াশার ভীরে হারিয়ে যাবো।।
সেদিন তুমি এসো,
এসো হে প্রিয় হীমেল
হাওয়া।
ঢুকে যেও এ হৃদয় ললাটের অন্তঃসারে
শূন্য গগনে পড়ে আছে নিরেট পাথরের
শক্ত প্রাচির দ্বার-খুলে দিও সে দ্বার
বাসন্তীর হৃদয়ের অন্দরে -অতঃপর
মাতম তুলো প্রেমের,
জাগিও বসন্তের শিহরন
আমি সেদিন বালকের হাতের
কাঁচা পয়সা হবো
প্রাপ্তির তৃপ্তি হয়ে মূহুর্তেই অপূর্ণতায়
হারিয়ে যাবো!
সেদিন প্রিয় বকুল-তুমি অবমুক্ত করে দিও
বৃন্থে গচ্ছিত তোমার যত সুভাস।
তীব্র গন্ধে মাতাল করে দিও এই নগরীর
প্রতিটা অলি-গলি-রাজপথ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।