শৈশব শিক্ষাঙ্গন
- আব্দুল্লাহ মোল্লা - কিশোর গল্প
সকাল সাতটা বাজলেই, মা বলে খোকা যল্দি ওঠ;
দেরি হলে চেঁচা-চেঁচিতে, মা বাবা দুজনি বাঁধে জোট।
তখন ভয়ে ঘুম পালিয়ে উঠতাম এক লাফেই;
আধ এক ঘণ্টা যেত, গোসল ব্রাশ মুখ ধুতেই।
ব্যাগ ঘাড়ে ও নাশতা হাতে মা করত ছুটা ছুটি;
ঘুম চোখে খাবার মুখে আমার হাতেও টিফিন বাটি।
সবার আগে ক্লাসে ঢুকে বেছে নিই বেঞ্চের প্রথম সারি!
একটু আগে পরে হলে শুরু হয় ছাত্র ছাত্রীর মারামারি।
জায়গা নিয়ে ভাগাভাগি স্কেল দিয়ে পরিধি মাপা;
কম বেশি দাগ টানলেই, পিছু থেকে পিঠে পড়ে থাবা।
কেউ যদি ব্যাগ রেখে ক্লাসে থাকে অনুপস্থিত;
ঐ ব্যাগটা বেঞ্চ মোছায়, ধুলাবালিতে করত চিকচিক।
পেতাম যদি পড়ে থাকা, পেন্সিল রাবার কিংবা স্কেল
ব্যাগে ঢুকিয়ে বলতাম এটা, দিয়েছে আমার ছোট আঙ্কেল।
কোন বন্ধু ক্লাসে যদি করত অ্যাবসেন্ট
রোল কল করলে পিছন থেকে, কেউ বলতাম প্রেজেন্ট।
হোমওয়ার্ক না করে আসতাম যদি ক্লাসে
সেই পিরিয়ড কাটিয়ে দিতাম ওয়াশরুমে বসে।
কাউকে পড়া জিজ্ঞেস করলে, যদি সে না বলত
তার ড্রেস কলম কালিতে করে দিতাম বিকশিত।
স্যার না থাকায় ক্লাস ক্যাপ্টেন যদি বোর্ডে লিখত নাম
কিল ঘুষির উচ্চ ভারে তাকে একটু বুঝ দিতাম।
টিফিন হলেই পাশের বন্ধুর বক্সটি করতাম ফাকা
স্যারের কাছে নালিশ গেলে পিঠ করত বাঁকা।
ছুটির সময় সবার আগে বই খাতা ব্যাগে গুছিয়ে
ভিড়াভিড়ির মধ্যে পড়ত কেহ, আমার ল্যাংচু খেয়ে।
সাহায্যের দাবি বন্ধুর কাছে, না পারলে পরীক্ষায়
অমতে টোপ দিতাম, জানিস আমার সাইকেল সবাই চালায়?
সাইকেলের সুবিধা পেয়ে পাশের বন্ধু সব দেখায়
বাকি পরীক্ষাগুলো শেষ হত, আমার নো চিন্তায়।
রেজাল্টের দিনে বন্ধুরা সব ফল প্রকাশের অপেক্ষায়
বলতাম তখন বন্ধু তোরা কষ্ট পেলে, মাফ কর আমায়।
বলল ওরা একসুরেতে,
সন্তান মোরা আপন মায়ের, আপন গাঁয়।
১৭ ই চৈত্র ১৪২৬
মঙ্গলবার, মধ্যাহ্ন: ১২ঃ৪৫
কুটুরিয়া, সাভার, ঢাকা।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।