সরকারি হাসপাতাল
- আমিনুর রহমান (তপু রায়হান)

সরকারি হাসপাতাল এখন যেন
বস্তিপাড়া আর কসাইখানা
মানুষ এখানে মানুষ নয় আর
যেন সবাই বিড়াল ছানা।

এক কেবিনে দশ-পনের রোগীর ঠাঁই
একটু শোয়া-বসার জায়গাও নাই
কেউ থাকে মেঝেতে,কেউ বারান্দায়
কেউ বাইরে শুয়ে কাঁদে প্রসব যন্ত্রনায়।

নেই এ্যাপ্রন,নেই মাস্ক,নোংরা পরিবেশ
অযত্ন-অবহেলায় পরিবেশ হচ্ছে শেষ
অপরিছন্ন রান্নাঘর আর নোংরা হাড়িকুড়ি
নোংরা মেঝে,কালিঝুলি ময়লারঝুড়ি।

সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও
নেই বাঁচানোর উপায়
সরকারি হাসপাতালে মানুষ এখন
পশুর চেয়েও অসহায়।

শত রোগীর ভিড়ে ডাক্তারমশাই
হয়ে যান পাগলের মতো
ব্যান্ডেজ,চাকু,ছুরি পেটে রেখেও
সেলাই করেন পেটের ক্ষত!

ওয়ার্ড বয়,আয়া-ঠিকাদারও
মাঝে মাঝে হয়ে যান ডাক্তার
অসহ্য যন্ত্রনায় তখন রোগী
করেন আর্তনাদ আর চিৎকার।

দালালের যোগাযোগ ভাল
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে
যত পরীক্ষা,রক্ত সরবরাহ
পাওয়া যাবে তাদের হাতে।

রোগীর ট্রলি বহন করতেও
গুনতে হয় পকেটের টাকা
টাকা ছাড়া চিকিৎসা বিফল
যায়না ভাল চিকিৎসক দেখা।

সুঁই ফুটিয়ে কানে মোবাইল গুজে
খোঁশগল্পেতে কেউ মাতেন
ভিড়ের মাঝে ছিনতাইকারী
রোগীর পকেট ও হাতেন।

কি বলবো হাসপাতালের সমাচার
নার্সদেরও দেখা যায় অভদ্র ব্যবহার
সেবা দিতে দিতে বেড়েছে অহংকার
রোগী এদের কাছে যেন শুধুই খরিদ্দার।

লাইন ছাড়া সেথা যায়না টিকেট কেনা
লাইন ছাড়া যায়না বাথরুমে যাওয়া
একেক কেবিন যেন একেক ষ্টেশন
লাইন ছাড়া হয়না কারো অপারেশন।

বিনামূল্যে কিছু হয়না এইকথাটি মেনে
সরকারি হাসপাতালে যাবেন জেনে
কবে হবে সুষ্ঠু পরিবেশ,দেখতে হবে
বাজেটগুলো কারা করছে শেষ!

সরকারি হাসপাতালগুলোতে
দুর্গন্ধ আর আবর্জনায় ভরা
অকেজো পঁচা-যন্ত্রপাতিতে
যায়না জটিল রোগ ধরা।

কেউ দেখেনা সরকারি তাই
এটা কেমন ধরনের কথা
জাতীয় ব্যাপারে উদাসীন সবাই
কেন নেই কোন মাথাব্যথা?

সরকারি হাসপাতালে সেবা পেলে
ক্লিনিকের দক্ষিনা কি মেলে?
রোগীর ঔষধ কোম্পানি নির্ধারণ করে
এ কারণেই অধিক সংখ্যক রোগী মরে।

এভাবে আর কতদিন নীতিহীন
সরকারকে অকারনে বদনাম
সরকারি হাসপাতালের অবস্থার
আশু কি মিলবেনা সমাধান।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026