বাবা আমার আদর্শ
- আমিনুর রহমান (তপু রায়হান)
সুধীসমাজ!জেনে রাখুন
আমি বিখ্যাত কেউ নয়
সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান
আমার বাবার পরিচয় আপনাদের কাছে দিতে আমি কুণ্ঠাবোধ করিনা
প্রচন্ড পরিশ্রমী,সংগ্রামী,সৎ মানুষটাই আমার বাবা
যিনি ফেরি করে মানুষের দ্বারে দ্বারে কসমেটিকস সামগ্রী বিক্রি করেছেন
পাঁয়ে হেটে দূরপথে সিজনাল তরকারি বিক্রি করেছেন
মাথায় বোঝার পরে বোঝা বহন করেছেন
বহন করেছেন শত দায়িত্বের পাহাড়
নিজে পরিশ্রম করে বাবা-মা,ভাই-বোনদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন।
বাবা কামলাও দিয়েছেন পরের ক্ষেতে
দিনের পর দিন স্বপ্নের পসরা সাঁজিয়ে
বাবা ধরেছিলেন ব্যবসার হাল
সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়েছিলেন এগারো বছর হতে
বাবা,খুব মেধাবী ছিলেন
এখনো জটিল অংকের হিসাব মনে মনে হিসাব করে বলে দিতে পারেন
যেটা করতে আমাদের খাতা-কলম আর ক্যালকুলেটর প্রয়োজন
নিজের স্বপ্ন হত্যা করেছিলেন সবার মুখপানে চেয়ে
দাদার ছিল নিদারুন অভাবের সংসার
সাতটা ভাই-বোনের খরচ,একমুঠো খাবার জোগাড়ের জন্য অভাবনীয় পরিশ্রম।
বাবা,আমাদের না খাইয়ে কখনো একা খেতে দেখিনি
বজ্রপাতের সময় কখনো কখনো খাটের নীচে শুতে হতো
আপনাদের মতো অট্টালিকা আমাদের নেই
তবে বাবার আদর্শে গড়া সুবিশাল মন আছে
বাবা অসহায় এতিমদের খাইয়েছেন-পরিয়েছেন-আশ্রয় দিয়েছেন বছরের পর বছর
মেহমান-ফকির-অসহায়কে না খাইয়ে যেতে দেননি আমাদের বাড়ি হতে
নিজ খরচে পরোপকার,রাস্তাঘাট মেরামত,মসজিদ,মাদ্রাসা নির্মানে সহযোগিতা করেছেন
অসহায়দের জন্য তার বুকভরা দরদ দেখেছি
সাধ্য পরিমাণ ব্যয় করেছেন গরীবদের জন্য।
আমার বাবা আমাদের লেখাপড়া করিয়েছেন
নিজের স্বপ্নকে আমাদের মাঝে বপন করেছেন
আমাদের যথার্থ মানুষ গড়তে বাবা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন জীবনের পড়ন্তবেলায় ও
কর্মব্যস্ততায় আবদ্ধ রেখেছেন নিজেকে
শক্তি-সাহস-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন সবসময়
বাবা নিজের জামা-কাপড় কখনো না কিনলেও
আমাদের কোন কিছুর অভাব রাখেননি
স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে;পরিবর্তন হয়েছে সবার প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভাই-বোন আর সবার
বাবা প্রতিদান চাননি;চেয়েছিলেন সবাইকে ধরে রাখতে
নিয়তির পরিহাসে বিচ্ছিন্নতা আসে তবুও
পরিবর্তন,উন্নতি,স্বচ্ছলতা ফিরে আসেনি বাবার!
সুধীসমাজ!বাবার অপমান হোক আমি কখনোই মানতে পারবোনা
আমাকে হত্যা করা হোক কিছুই মনে করবোনা।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।