অধ্য-জলাতিকার ক্রন্দন
- সুকন্যা তিশা

ভেবেছিলাম তোকে নিয়ে উজান গাঙে
সাঁতরে বেড়াবো ,
গাঙের এপার থেকে ওপারে ভাসান দেবো
নিরালা কোন এক তপ্ত দুপুরে।
মাঝ-গাঙে গিয়ে ডুব সাঁতারে হারিয়ে যাবো অতল গহ্বরে,
ক্লান্ত হয়ে এলে স্রোতের ভেলায় গা ভাসিয়ে জিড়িয়ে নেবো কিছুক্ষন।

ক্ষানিকবাদেই রোমাঞ্চিত হয়ে তুই আমায় বলবি-
‘চল না অতলেই হারিয়ে যাই দুজনায়,
গুল্ম-লতার বেড়ায় ছোট্ট ঘর আর
আসমানী রঙের জলতলে কাটিয়ে দেই বাকিটা সময়।
জলকন্যা হয়ে তুই সাম্রাজ্ঞ্য করবি তোর রাজত্বে
আর জলদস্যু হয়ে প্রতিদিন সেই রাজ্যে লুটের তাণ্ডব চালাবো আমি।
ক্ষোভ আর অভিমানিত মন নিয়ে মুখ ফুলিয়ে রইবি তুই ,
আর ক্ষোভের পাহাড় বাড়াতে
নিত্য নতুন বাহানা সাজিয়ে তাণ্ডবলীলার অস্ত্র শানিত করবো আমি ।”

এমনি করে বেশ তো দুজন কল্পলোকে হারাচ্ছিলেম ,
হঠাৎ করে কি হলো কি জানি !
যেই না মাঝ দরিয়ায় এলেম, অমনি তুই আমায় বললি-
‘এজন্মে এতটুকুই থাক,বাকি পথ তুই একাই সামাল দে!
জলতরঙ্গের এই ভেলায় আমার স্বপ্নকে ভাসিয়ে দিলেম আজ ।
আমার বাড়ি ফেরার বড্ড তাড়া আছে ,
ডাঙায় বসে অপেক্ষায় আছে আমার অস্বীকৃত সত্য ।
তোর কাছে রাখা স্বপ্নগুলোকে যত্ন করে সামলে রাখিস ,
যদি পারিস কখনও কোন এক স্বপ্নকুমারকে
বসিয়ে দিস তোর এই জলাতিকার সাম্রাজ্যে।
দূর থেকে দর্শক হয়ে তোর সেই
জলখেলা অবলোকন করেই সান্ত্বনা নেবো আমি,
আর ভেবে নেবো –
উজান গাঙের মাঝদরিয়াই ছিলো আমার ভাটির শেষটান।”

সেদিন থেকে সেখানেই থেমে গেল আমার জলের গান,
ক্লান্ত মনে ডাঙা ফিরে এলেম,
আর,সেই থেকে আজো তীরে বসেই অষ্টপ্রহর জলাতিকার ক্রন্দন শুনি আমি ।
এই ভেবে সুখী হই-
কোন একদিন তো ছিলো যেদিন হাস্যরসে টইটুম্বর ছিলো এই ক্রন্দিত-জল,
উপচে উঠা সেই জলের তলে কেউ তো ছিলো যে করতো হাস্য-ছল।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026