লাইলা-মজনু
- আমিনুর রহমান (তপু রায়হান) - প্রেমকাব্য

লাইলা-মজনু
আমিনুর রহমান
০৪.৫.২০২০

মজনু (কায়েস):

মরু রাত্রির নিরবতা
বইছে লু হাওয়া
মনে ভাসে কতকথা
লাইলাকে চাওয়া।

বিস্তৃত বালিকা ভূমি
বিস্তৃত আকাশের সীমা
হাসিতে মায়া দুষ্টুমি
নেই মনের খবর জানা।

তাঁবুতে খুঁজি গোপনে
নেই পথের দিশারী
খুঁজি অমরত্বের সন্ধানে
আমি প্রেমের অনুসারী।

ঝর্ণা আকুল নদীপানে
মিলন নেশাতে ব্যাকুল
আমি ছুটি তার গানে
ফুটেছে প্রেমের ফুল।

হৃদয়ে জ্বলে আগুন
আগুন চাই চাই
পুড়ে হয়েছি অঙ্গার
কাছে মিনতি জানাই।


মজনু ও লাইলার কথোপকথন:

নিয়ে আসো আগুন
বাইরে কায়েস অপেক্ষায়
বইছে বসন্ত ফাল্গুন
স্বাগত কায়েস ভাই।

নিয়ে এসেছি আগুন
বলো কি অভিপ্রায়
কি আগুনে জ্বালো হৃদয়
আমি পুড়ে হয় ছাই।

শুনবে কি মোর গীতি
জ্বালাময়ী বুকের আর্তনাদ
উঠবে জেগে প্রীতি
শুনবে কি মনের ফরিয়াদ।

যে আগুন জ্বলে বুকে
নেভেনা না দেখে
আমি মরি নিত্য দুখে
বালিরাশিতে নাম লিখে।

লাইলা:

মিলন আশাতে ছিলাম অধীর
পান করেছি প্রেমের সঞ্জীবন
গলাতে পরা আছে জিঞ্জীর
মনে রাখবো তব আজীবন।

আমি তোমার সবটুকু চাই
তৃষ্ণার্ত যেমন তীব্র পিপাশায়
ভালবেসে বুকে দিও আশ্রয়
মরিচিকার পিছু ছুটে যায়।

কত প্রেম সুধাও আত্মাকে
পরেছি গলে প্রেম-মালা
তুমি প্রশ্ন করো নিজেকে
গাঁথি দুচোখের অশ্রুমালা।

তপ্তবালিতে দ্যাখো কি হীরক
এখন তবে দাওগো বিদায়
ফের এসো গোপন অভিসারক
নিশিথ বেলা শেষ হয়ে যায়।

মজনু:

মরুপথে তব পদচিহ্ন পায়
তব খোশবু ভাসে ভোরের বাতাসে
আমি ধুলি নিয়ে গায়ে মাখায়
তোমার চোখ দেখি হরিনীর চোখে।

লাইলা:

আমি বসে থাকি অপেক্ষায়
কেন প্রেমে মজি শত্রুগোত্রের
কোন পথে হেঁটে তুমি যাও
মরুপানে তাকিয়ে খুঁজি ফের।

মজনু:

যত ঝড় আসুক ডরিনা বিরোধ
হতে পারি আমি প্রেমের কাঙ্গাল
চিরতরে সাথী হও করি অনুরোধ
ভালবাসা দিয়ে সরাবো জঙ্গাল।

লাইলা:

এতো কবিতা কার বিরহ ব্যথায়
লিখেছিলে গয়েলের নির্জন কোঠায়
কি এমন সৌন্দর্য দেখেছ আমায়
পাড়ার ছেলেরা মশগুল ঠাট্টায়।

মজনু:

তুমি যে আমার কাব্যের প্রতিমা
তুমি আমার স্বর্গ,তুমিই সুখপাখি
কিভাবে দেব তোমার উপমা
দিবা-নিশি আমি তোমার নাম জপি।

মৃত্যু পারবেনা মুছে দিতে প্রেমসুধা
লাইলা লাইলা বলে কাঁদে অন্তর
কখনো হবেনা শেষ দেখার ক্ষুধা
হয়তো পরিচয় ছিল জন্ম-জন্মান্তর।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।