তুই হেসে উঠলে
- শেখ মাফিজুল ইসলাম
টাকা পয়সা ফতুর যখন আতুর ঘরে শিশু এলো,
‘সাত রাজার ধন মানিক নাকি!’ ব্যঙ্গ রসে ভেসে গ্যাল।
গরীব ঘরে এমনটি হয়, মজনু মিয়া ভাবছে বসে,
নতুন মুখের আমদানি যে সংসার তার চলবে কিসে।
বাড়বাড়ন্ত শিশুটি বেশ কোঁকিয়ে কাঁদে জাগায় পাড়া
ছিঁচকে চোরের মহল্লাতে পড়ে গ্যাল ভীষণ সাড়া।
ফ্যাল ফেলিয়ে তাকায় শিশু আকাশ দেখে চমকে ওঠে
আপন জনের ছোঁয়া পেলে ফোঁকলা দাঁতে হাসি ছোটে।
ঘুম পাড়ানোর সময় হ’লে গুনগুনিয়ে মা যে বলে-
‘তুই হেসে উঠলে সূর্য লজ্জা পায়
আলোর মুকুট আমি তোকেই পরাতে চাই’।
‘এ-বয়সেই কপালে ভাঁজ? ও-মা একি কাণ্ড,
এ-শিশু যে বড় হ’লে করবে লণ্ডভন্ড!’
করিমনের কথা শুনে গা-জ্বলে যায় রাগে;
‘তোমার এতো চিন্তা কিসের?’ বললো
পাশের বাড়ির খালা। একেই বলে বিজ্ঞ শিশু
আর কোর না অবহেলা।
যত্ন-আত্তি করবে এসে, কথা বলবে হেসে হেসে
রাতের বেলা চাঁদকে ডেকে বলবে তাকে ভালবেসে-
‘চাঁদের কপালে চাঁদ টি দিয়ে যা’।
ওর আলোতে জাগবে পাড়া, জাগবে শত মন
ওর কথাতেই পালিয়ে যাবে দেশের দুঃশাসন।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।