রাতের ফেরিওয়ালা
- হাসিব মহিউদ্দিন
জানালার বুকে উশর চাঁদের হাসি ছড়িয়েছে সুখে,
বাঁকা চাঁদ হাসে আলো উদ্ভাসে মাখা এক কৌতুকে।
গভীর রাতের ফেরিওয়ালা এক চলে;
হলুদের মাখা পাঞ্জাবি তার করে চলে ঝলমলে।
দেখি তারে আমি আজ;
প্রথমে ভেবেছি অশরীরী এক মাখে নিজ কারুকাজ।
শিহরিত হয়ে ডাকি আমি তারে ও ভাই ও ভাই বলে;
আমার ডাকের সাড়া নাই দিয়ে আনমনে সে যে চলে।
তার চলনের ধারাবাহিকতা দেখে আমি হই মুগ্ধ;
চাঁদের ফসিল দ্যুতি মুখে পড়ে গাঁয়ের বরণ দুগ্ধ।
যেন এক দেবদূত;
গড়েছেন বুঝি আমার বিধাতা তারে করে যে নিখুঁত।
আমি দেহলির হতে আসি ছুটে বেগে;
চাইনা চলুক অমন রজনী আমায় আজকে ত্যাগে।
নারীর অমন রাতের যাপন বৃথা;
ছুটে যাবো বলে পণ যে করেছি লাগছে সকল তিতা।
তার সাথে কথা বলবো বলেই চলা;
আমার অমন ঢলা,
একটু সমুখ দিকে চলে সে যে তারপর ফিরে চায়;
ঘরের আগল মেলেছি যে আমি ম্লান মুখ নিরুপায়।
আমায় দেখে ফিরে আসে সে আবার;
মন্দ্রিত মুখে শিশিরের মত লেগেছে দ্যুতি পাথার।
সাহস করেই বলে ফেলি আমি তাই,
"তুমি যে আমার স্বপন পুরুষ আমি তোমাকেই চাই"।
ফেরিওয়ালা হাসে দ্যুতি উদ্ভাসে দেখি,
বলছিনা কিছু মেকি,
যেন মনে হয় বাঁকা চাঁদখানি বাকি রূপ দিলো মেখে,
রাস্তার সব নিয়ন বাতি যে ম্লান হলো তারে চেখে।
কাছে গিয়ে তারে বলতে চেয়েছি সবি;
স্বপনের মাঝে বুঝি তারে দেখি এঁকে চলি সেই ছবি।
আচমকা দেখি হেসে উঠে সে যে বলেছে পাহারাদার;
তার কথা শুনে ভেঙে যায় মন বলি যে হবে আমার।
বুঝিনি তার এ কিছুই যে আমি ঘিরে;
আবার হাসছে আমার দিকেতে চেয়ে থাকে যেন ফিরে।
বলে শুধ তাই একটি কথাই বেগে;
এই জগতের পাহারা আমার দিতে হবে জানি লেগে।
চমকিত মন ভীত হয়ে উঠে আজ;
ভয়ে চোখ বুজি তখন পড়েছে বাজ,
তখন চোখের পাতা মেলে দেখি নাই,
বুঝেছি আজকে কোথায় দিয়েছি ঠাঁই;
ভয়ে ফিরে আসি ত্বরা নিজ ঘরে আমি,
তখন দেখেছি ঊষা আহ্বান করেছে বিদায়ে যামী।
ঘুম নেমে আসে আমার দু'চোখে ক্লান্তির ছায়া ফুটে;
গভীর রাতের ফেরিওয়ালা জানি আরেক পৃথিবী ছুটে।
২৭-০২-২০২৪
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।