মায়ের কথা গাঁয়ের কথা
- পঙ্কজ শীল
আজকে আমি বলি শোনো দুখী মায়ের গল্প,
এই মা তো আর কোনোদিকে ছিলেননা তো অল্প।
দুখী মায়ের তিনটি ছেলে তিনটি ছিলো বধূ
তিনটি ছেলের তিনটি মেয়ে একটি মেয়ে মধু!
মায়ের তরে ছেলের ঘরে অভাব ছিলো ভাতে
দুষ্টু তিনটি বধূ তাঁকে ভাত দিতোনা পাতে!
দুখী মা'য়ে দুঃখ নিয়ে রাতের বেলায় কাঁদে
দুঃখ তাঁরই কেউ দেখেনা;দেখে শুধু চাঁদে!
ছেলে তিনটি বাইরে থাকে খবর নেয়না মায়ের
বধূগুলি দোষ করলে আজ করে মাকে দ্বায়ের,
কি করবে আজ দুখী মায়ে ভাত জুটেনা পেটে
নিজের তরে ভিক্ষা করে ঘর-দোয়ারে হেটে!
গাঁয়ের মানুষ শোনলো যখন দুঃখ কোথায় রাখে
এই ঘটনা শোনে তাদের আগুন ধরে নাকে!
রাতের বেলায় মাতবর সাহেব পেলেন যখন নালিশ
দুঃখ শুনে কেঁদে ভিজায় তাঁর শিওরের বালিশ।
রাত পোহালে বিচার ডাকে মিলে গাঁয়ের দশে
কি দোষ ছিলো দুখী মায়ের সবাই হিসেব কষে,
মাতবর সাহেব আদেশ করেন সব ছেলেদের আনো
সবার সামনে আজকে তাদের ধরতে হবে কানো।
শাস্তি তাদের পেতেই হবে বাজবে আজই বারো
যারা ছিলো সহযোগী শাস্তি হবে তারও
দুখী মায়ের নাতিন বলে দোষ নেই দাদীর কোনো
সব দোষ তো আজ বাপ্ চাচাদের আমি বলছি শোনো।
অবশেষে তিনটি ছেলের কাঁঠাল বাঁধলো গলে
তাদের কাণ্ড দেখে সবাই হাসে দলেদলে
মাতবর বলেন কাঁঠাল নিয়ে ঘুরতে হবে গাঁয়ে,
গাঁয়ের সকল মানুষ খুশি এতো সুন্দর রায়ে।
ছেলে তিনটির কষ্ট দেখে বলে যে আজ মা'য়ে
তাদের কে আজ তুলে দাও ভাই আমার সুখের নায়ে,
ছেলেদের কে মাতবর বলেন কেমন লাগে সাজা?
মাকে রেখে তোরা তো আজ নিজে নিজেই রাজা!
কাঁঠালভারে তোদের দেহে কেমন মজা লাগে?
বিবেক এইবার ঘুমে নাকি; নাকি তা আজ জাগে!
দশমাস-দশদিন তোরা ছিলি এই মায়েরই পেটে
তখন তো মা না করেননি পেটের ভারে হেঁটে।
তোরা কেনো না করবি আজ ছোট্ট কাঁঠাল ভারে
তেমন কষ্ট পাবি তোরা যেমন দিবি যারে,
অবশেষে বলে তারা আমরা হবো ভালো
ওগো আমার মা জননী দেখাও পথের আলো।
সব অপরাধ মাফ করো আজ জীবন ভরা ভোলে
শিশুর মতো তুলে নাও মা আজকে আবার কোলে।
২৬-১১-২০২৪
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।