হাওরকন্যা ও শালিক
- পঙ্কজ শীল
কারো মনে প্রশান্তি নয় আসলে তেড়ে বন্যা
চিন্তা করে শুকিয়ে থাকে হাওরপাড়ের কন্যা
চিন্তারোগের ওষুধ নিয়ে শালিক আসে রাতে
শালিক বলে চলো কন্যা-চলো আমার সাথে।
শালিক তুমি যাও চলে যাও,আসব আমি পরে
আমি হলাম হাওরকন্যা এই হাওরের তরে।
দেখেছিলে গত বন্যায় ডুবলো কতো রাস্তাঘাট
আর ডুবেছে আমার গাঁয়ের শানুদেরই মাঠ
কোথা দিয়ে হাঁটল ওরা খেললো কোথা গিয়ে
এই যে দ্যাখো ওই উঠোনে হতো পুতুল বিয়ে।
ওই মাঠেতে উড়তো ঘুড়ি উড়তো বুড়ির সূতো
আমরা খেতাম ওই মাঠেতেই দুষ্টু ষাঁড়ের গুঁতো!
এবার তাকাও চাষির ঘরে দেখো তাদের দুখ্
মহামারি বন্যা এলে ভাসে তাদের সুখ!
তাদের ঘরের গরু মরে যায়তো ভেসে ভেসে
কেনো আসে এমন বন্যা আমাদেরই দেশে!
আশা ভিজে কোমর পানিত্-কপাল হাঁটুজলে
দুঃখ তাদের জমে জমে, পা থেকে তাই গলে!
চাষার ঘরে এঁকে বন্যা মহাবিষাদ রেখা
সুখের সাথে তাল মিলাতে পায়না সুখের দেখা।
এবার তাকাও অন্যদিকে দেখো নিজের চোখে
কষ্ট পেলে অনুভবে আগলে রেখো বুকে-
এই যে দ্যাখো মরে শিশু কী হয় তাদের গতি
কচিকচি অবুঝ পরান করে কী গো ক্ষতি?
কেঁদে মরে মা জননী ছোট্ট শাবক তরে
আচ্ছা! কি আর কাঁদলে আসে ছোট্টসোনা ঘরে!
এসব শুনে শালিক তুমি কষ্ট পেলে নাকি?
আরও কতো মনবেদনা রয়ে গেলো বাকি!
তোমরা বলো আমরা মানুষ খুব সুখেতে আছি
তার চেয়েতে অনেক ভালো বনের কানামাছি!
আমরা সকল মানবজাতি পাচ্ছি এমন সাজা
আমার কাছে তোমরা হলে এই ভুবনের রাজা!
২৬-১১-২০২৪
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।