আত্মকথন ১২
- ফারহান নূর শান্ত
মাঝে মাঝে কখনো চাইলেই,
কিছুতে কিছু লিখে ফেলা যায় না।
পৃথিবীর অনেক অক্ষর,শব্দমালা এখনও বাকি
যাদের নিয়ে, লেখা হয়নি।
এই বারান্দা, ছেড়া ঘুড়ি লাটাই,
উঠোনে ফেলে রাখা খেলনা বাটি, ছাদের ঘরের
সেই ভাঙা রেডিও - ওদের কথা কেউ বলে না।
আমার এই স্তব্ধ শয়নকক্ষ,
টেবিল চেয়ার বলপেন,
আর ঐ চশমা - পড়ে আছে, থাকুক।
ভাবছি,তাকিয়ে আছি চশমা আর আয়নার দিকে।
দুটোই তো কাচ,
একটাতে তাকালে সব কিছু স্পষ্ট দেখা যায়,
আর,আরেকটাতে তাকালে নিজেকে দেখা যায়।
পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ'ই আয়নাতে তাকায়
নিজেকে সুন্দর দেখতে লাগছে,
এই ভেবে।
মানুষ হাসে, লজ্জা পায়, নিজেকে সাজায়
কখনো'বা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
ঠিক তেমনি, আমার কলমটা লেখার খাতা থেকে
মুখ ফিরিয়ে নিলো কিনা বুঝতে পারছি না।
মুঠোয় জমিয়ে রাখা সহস্র কবিতা,
ছন্দপতন, কল্পকাব্য,
রোজই কিছুনা কিছু বলতে চায়।
ওরা নিজেদের কথা গুছিয়ে রাখে,
মুঠো ভেদ করে ওরা,
খাতায় রচিত হতে পারে না বলে
মাঝে মাঝে কাঁদেও।
আমার লেখার কলমটা বড্ড অভিমানী।
এর তার কথা দিব্যি প্রতিনিয়ত লিখে যাচ্ছে,
কখনো নিজের কথাগুলো লিখতে পারছে না।
ঠিক তেমনি,
পৃথিবীতে প্রতিদিন শত শত বই খোলা হচ্ছে।
কিন্তু সব বই কি পড়া হয়?
কখনো হয়েছে? আদৌ কি হবে?
এতো এতো মানুষ বই খোলে,
কেউ পড়ে, কেউ উল্টো করে রাখে
কেউ বা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
ওরা কি জানে,
না পড়া বইয়েরা কতোটা কষ্টে থাকে ?
পৃথিবীর সকল বই যেদিন
পাঠকের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে ,
সেদিন ওরা বুঝবে
বই কতো বড় অভিমানী।
এই ভালো লাগা,মনের নিম্নচাপ, উন্মাদনা,
পাশ ফিরে জানালায় তাকিয়ে বসে থাকা,
রাগে বই ছুড়ে ফেলা,
এসবের পরও তুমি মানুষ কি ভালো থাকতে পারো?
তোমার ভালো না থাকার সকল কথা যে যার মতো
বহু ভাবে লিখে গেছেন।
তুমি পড়ো, পড়ে ফেলো।
কলম তুমি লিখতে দাও তেমনি করে,
মুঠোয় মুহূর্ত থাকে,ওরা বেরিয়ে আসতে চায়।
ওদের জায়গা,ঐ খাতার পাতায় ।
আর আমি,
আমি বরং'চ চোখে চশমা দিয়ে এবার
লিখতে বসি।
হ্যাঁ লিখতে বসি।
১০-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।