শূন্যতার নকশা
- পঙ্কজ শীল

সমস্ত শব্দেরা একদিন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। তারা বলেছিল—আমরা অর্থহীন হয়ে গেছি, আমাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরে পড়ে অথচ কেউ আমাদের যন্ত্রণা বোঝে না।
আমি চেয়েছিলাম তাদের পাশে দাঁড়াতে কিন্তু আমার হাত শূন্য ছিল। আঙুলগুলোতে শুধু ভাঙাচোরা নীরবতা।

রাত্রি গভীর হলে এক অদৃশ্য ঘড়ি কাঁপতে থাকে আমার বুকে। সময়ের সুঁইগুলো খোঁচা দেয়—যেন প্রতিটি মুহূর্ত একেকটি শেকল, আমাকে কোথাও আটকে রেখেছে।
কোথায়?
কে জানে! হয়তো অতীতের কোনো অলীক শহরে, যেখানে আলো নেই, শুধু দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি।

আমার ছায়াও একদিন ক্লান্ত হয়ে পড়ল। সে বলল—আমি আর তোমার পেছনে হাঁটতে পারছি না, আমারও মুক্তি চাই।
আমি চমকে উঠলাম। ছায়াও যদি মুক্তি চায়, তবে আমি কোথায় যাব?
নাকি আমিই সেই ছায়া, যা কারও পায়ের নিচে আটকে আছে?

শব্দেরা একে একে বিদায় নিলো, ছায়া সরে গেল, সময় তার কাঁটা গুটিয়ে নিলো।
শুধু আমি একা দাঁড়িয়ে রইলাম—শূন্যতার নকশার সামনে, এক নির্বাক স্থবিরতার ভেতর।

২২ ফেব্রুয়ারি,২০২৫ খ্রি.


২৩-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026