বিদঘুটে ভাবনা
- ফারহান নূর শান্ত
কি যেন হলো,
ঠিক অদ্ভুত ভাবেই।
গাঙচিল পায়ে হেঁটে নদী পার হচ্ছে।
মাছরাঙা টা,
পুকুর,বিলের ধারে কাছেও ঘেঁষছে না।
কাঠঠোকরা,
মুখে করে জল এনে গাছের গোড়ায় দিচ্ছে।
আবেশে চোখ বোজার আগেই,
মুগ্ধতা গিলে নিচ্ছে কেউ।
যখন প্রকৃতি ঝড়ে উত্তাল,
গাছেরা গা ছেড়ে দিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েছে।
আধশুকানো সেই বিলের শাপলার গোড়ায় আর সাপ প্যাঁচিয়ে বসে থাকেনা।
গর্তের মুখ বন্ধ করে নির্বাসনে চলে গ্যাছে ওরা।
যে কচ্ছপটা ধীরগতিতে পুরোটা জীবন কাটিয়ে দিলো,
সেও আছে তড়িঘড়ি করে ছুটে চলাতে,
যাওয়ার খুব তাড়া।
ডাস্টবিনে পঁচা বাসি খাবার থেকে আজকে আর দুর্গন্ধ আসছে না বলে,
কুকুর আর পাড়ার মোড়ের পাগলটা মুখ ফিরিয়ে নিলো।
দেয়ালে দেয়ালে লেখা, নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি,
কিন্তু কাকে খোঁজা হচ্ছে,
কার সন্ধান চাই, সে'তো লেখা নেই।
লেখা নেই,
কোনো যোগাযোগের ঠিকানা, ফোন নম্বর।
ল্যাম্পপোস্টের তারে আজ যে ঘুড়ি আটকে ছিলো,
সে ঘুড়ির ভারে তারগুলো খুলে মাটিতে পরে গেলো।
অথচ ছোট্ট ছেলেটা ঐ একটা ঘুড়ির জন্য কেঁদে বাড়ি ফিরতো।
এখন আর ছাদে এ্যান্টেনা ঘোরালে টিভির চ্যানেল স্বচ্ছ হচ্ছে না।
রেডিওতে রোজ রোজ শোনা নাটক গান,
আজ ভিডিও আকারে রেডিওর বুকে দৃশ্যমান ভাবে প্রচারিত হচ্ছে।
আমার যাত্রাপথে,
যে ভিখারিকে আমি সাহায্য করতাম
কমবেশি রোজ,
সেও আজ ব্ল্যাংক চেকে করে, তার নিত্য জীবনের
চাহিদার দাম মেটাচ্ছে।
আমি যে প্রকাশনির কাছে ছুটে বেড়াতাম
আমার লেখাগুলো নিয়ে,
প্রতিবার যারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলো,
তারা আজ সাদরে গ্রহণ করে নিচ্ছে আমাকে।
অথচ লেখায় মাত্রাবৃত্তে
অন্তমিলে বেশ গড়মিল ছিলো আজ,
বানান ভুল ভরা।
কেন এসব হচ্ছে?
মৃত্যুর কথা গেঁথে রাখা আমার মন
আজ কেন এত শীতল,উন্মাদনাহীন!
তবে কি আমি এ সময়ে বহিরাগত কেউ?
যে মানানসই নই!
আমাকে অন্ধকার গ্রাস করে নিচ্ছে
আলোর ঝলকানিতে।
এতসব প্রশ্নে কেন আমি চিন্তিত নই?
নাকি সব বদলে গ্যাছে?
নিকোশ অন্ধকারে।
শুধু কেউ এসে আলো জ্বালালে তাতে উত্তর মিলবে।
২৫-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।