মুক্তির অগ্নিসংলাপ
- পঙ্কজ শীল
তুমি কে, যে মুক্তি বলো নিজেকে?
তুমি কি কেবলই এক অভিধানবদ্ধ শব্দ, নাকি রক্তাক্ত ইতিহাসের দীপ্ত সংলাপ?
তোমার স্পর্শ কি শীতল মুক্তির প্রতিশ্রুতি, নাকি এক অনন্ত তাপদগ্ধ পরিক্রমা, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ এক নতুন শেকল ভাঙার আহ্বান?
আমি দেখেছি তোমাকে অগ্নিস্রোতে জ্বলতে,
যেখানে সময়ের কপালে লিখিত হয়েছিল শোষণের অমোচনীয় অক্ষর,
যেখানে রুদ্ধ প্রাচীর ভেদ করে উঠে এসেছিল এক বিদ্রোহী প্রভাত,
যেখানে শব্দেরা ছিল প্রতিরোধের তীক্ষ্ণ তলোয়ার,
আর নীরবতাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে ভয়ংকর চিৎকার।
তুমি কি জানো, মুক্তি?
তোমার নামে কত স্বপ্ন পুড়েছে, কত হৃদয় ছাই হয়ে গেছে,
কত শতাব্দীর ক্লান্তি জমেছে অপেক্ষার অনিঃশেষ গহ্বরে!
তবু তুমি ধরা দাও না, কেবল ছায়ার মতো পিছিয়ে যাও,
অধরা নক্ষত্রের মতো হাতের আঙুলের ফাঁক গলে হারিয়ে যাও দিগন্তের অন্তরালে।
তুমি কি শুধুই এক যুদ্ধের সমাপ্তি?
নাকি যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন বন্দিত্বের সূচনা?
তোমার পতাকাবাহী যারা, তারাই কি কখনো শাসকের মুখোশ পরে না?
তোমার রঙিন প্রতিশ্রুতিগুলো কি কখনো বিবর্ণ হয় না?
আমি মুক্তি খুঁজি প্রতিটি দরজার ওপাশে,
আমি মুক্তি খুঁজি ভুখা সন্তানের মুখের হাসিতে,
আমি মুক্তি খুঁজি অন্তহীন প্রতীক্ষার চোখে,
আমি মুক্তি খুঁজি অন্ধকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী আলোর প্রতিটি কণায়।
কিন্তু বলো, মুক্তি—
তুমি কি সত্যিই এসেছো?
নাকি কেবলই নতুন শৃঙ্খলের নামান্তর?
নাকি তুমি শুধুই এক অসমাপ্ত অগ্নিসংলাপ?
১৮-০৩-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।