সময়ের মৃতদেহ
- পঙ্কজ শীল
সময়ের শ্বাসরোধ হয় যখন ঘড়ির কাঁটা শুধু চক্রাকার ঘুরে, কিন্তু জীবনের গতিরেখায় কোনো অগ্রগতি নেই। বিস্তীর্ণ জনপদে ইতিহাসের জীর্ণ পৃষ্ঠাগুলো ভেসে বেড়ায়, অথচ কেউ তা পড়ে না—সময়ের শবদেহ অনন্ত নির্বিকারতায় শুয়ে থাকে। সভ্যতার ছেঁড়া কাঁথার নিচে লুকিয়ে থাকে স্বপ্নহীন চোখ, মুখরিত শূন্যতা।
কোথাও একশো পাউন্ডের নোটে বিক্রি হয় নৈতিকতা, কোথাও মূল্যহীন হয়ে পড়ে মানবতা। নগরীর আলোকমালা জ্বলে থাকে, কিন্তু তার নিচে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ক্ষুধার্ত শিশু, যাদের শিরায় বয়ে চলে বঞ্চনার পচনধরা রক্ত। ক্ষমতার দানবেরা কংক্রিটের অট্টালিকায় সময়কে বন্দি করে রাখে, অথচ সেই সময়ের মৃতদেহ পড়ে থাকে পথে, শববাহী গাড়ি তাকে বহন করতে পারে না।
তবুও সভ্যতা এগিয়ে চলেছে বলে একধরনের বিভ্রম সৃষ্টি হয়। পুঁজি আর লোভের সুতোর টানে কৃত্রিম হাসির মুখোশ পরে মানুষ। অথচ ভেতরে পচনশীল বিবেকের গন্ধ—যে গন্ধ নাকে আসে, কিন্তু সবাই গন্ধহীনতার অভিনয় করে।
সময়ের মৃতদেহ পড়ে আছে—এ শহরের ক্লান্ত রাস্তায়, অবচেতন গণতন্ত্রের বারান্দায়, চিৎকারবিহীন প্রতিবাদের পোস্টারে, ক্ষুধার্ত বৃদ্ধার শুকনো হাতের রেখায়। কেউ তাকে কবর দিতে চায় না, কারণ মৃত সময়ের দায়ভার বহন করা যায় না। অথচ একদিন এই মৃতদেহ পচে গিয়ে ছড়িয়ে দেবে অবক্ষয়ের সংক্রমণ—তখন আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, থাকবে শুধু নির্বাক ধ্বংসস্তূপ, যেখানে কোনো ভবিষ্যৎ জন্ম নেবে না।
২১-০৩-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।