নিঃসঙ্গতার উৎসব
- পঙ্কজ শীল
সমস্ত শব্দগুলো নিঃশেষ হয়ে গেলে, শূন্যতার এক অনবদ্য সঙ্গীত বাজে হৃদয়ের অন্তঃপুরে। গুমরে ওঠা বাতাস জানে, একাকীত্বেরও নিজস্ব ব্যাকরণ আছে—যেখানে ব্যঞ্জনবর্ণগুলো বোবা হয়ে পড়ে, স্বরবর্ণেরা মুখ ফিরিয়ে নেয়। সময় এখানে স্থবির, মুহূর্তগুলো জমে ওঠা কুয়াশার মতো ধীরলয়ে ছড়িয়ে পড়ে অস্তিত্বের প্রতিটি অনুচ্ছেদে।
নিঃসঙ্গতারও এক উৎসব আছে, যেখানে আমন্ত্রণপত্র আসে অবিন্যস্ত ক্লান্তি আর বিষণ্নতার গোপন কূটনীতির হাত ধরে। এখানে কোনো আলোর প্রবেশাধিকার নেই, শুধুমাত্র ছায়ারা নিজেদের দীর্ঘ করে জড়িয়ে ধরে একে অপরকে। বাতাসের একা চলার ছন্দে তীব্র আর্তনাদ মিশে থাকে, শব্দের শিরায় শিরায় ফাটল ধরে।
এই উৎসবে কোনো অতিথি নেই, শুধুই আত্মার অনিঃশেষ আর্তনাদ। বেদনাদের অলংকার হয়ে ওঠে দীর্ঘশ্বাস, বিষাদের সুরগুলি একেকটি স্বচ্ছ স্ফটিক হয়ে গলে পড়ে স্মৃতির জমাটপড়া গহ্বরে। প্রতিটি অব্যক্ত অনুভূতি এখানে দীপশিখার মতো দোদুল্যমান—আলো হয়ে জ্বলে ওঠে, আবার নিভেও যায় অনিবার্য পরিণতির মগ্নতার কাছে।
তবু, এই একাকীত্বের মধ্যেও এক অদ্ভুত প্রশান্তি রয়েছে। যেন শূন্যতার গভীরতম স্তরে পৌঁছে যাওয়ার এক অদ্ভুত সাধনা, যেন নিজেকেই আত্মস্থ করার এক অনিবার্য নিয়তি। সময় থমকে দাঁড়ায়, সব গুঞ্জন স্তব্ধ হয়ে যায়, এবং মানুষ বুঝতে শেখে—নিঃসঙ্গতারও এক রাজপাট আছে, যেখানে একা থাকাই পরম প্রাপ্তি।
২৫-০৩-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।