হাতের তালুতে পৃথিবী
- পঙ্কজ শীল
আমার হাতের রেখাগুলো বহন করে এক অনন্ত মহাকাব্য—
সমুদ্রের ঢেউ, বিস্ফোরিত নক্ষত্রের ধূলি,
আর কতশত হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার অশ্রুবিন্দু।
এই তালুর ভাঁজে আটকে আছে জন্ম ও মৃত্যুর মাঝামাঝি
এক অস্ফুট যন্ত্রণার মানচিত্র,
যেখানে সময় কেবলই ঘূর্ণির মতো ঘুরতে থাকে,
নিঃশব্দে, নিঃসঙ্গভাবে।
আমার আঙুলের ডগায় স্পর্শ করে যায়
উত্তপ্ত মরুভূমির উল্কাপিণ্ড,
উদ্বাস্তু শিশুর নোনা চোখের জল,
নির্জন পাহাড়ের পাথরে খোদাই করা
ভগ্নপ্রায় প্রেমপত্রের অবশিষ্ট শব্দ।
আমি অনুভব করি—
এখানে, এই ক্ষুদ্র তালুর গভীর চিলেকোঠায়
কোথাও এক নির্জন গ্রহ আবর্তিত হয়
আমার নিঃশ্বাসের তালে তালে।
এই পৃথিবী ক্ষুদ্র, কিন্তু তার ভার অপার।
এখানে সমুদ্র ফেনায় জন্ম নেয় ইতিহাস,
আকাশের নক্ষত্রেরা মিশে যায় চোখের তারায়,
এবং শব্দেরা নীরবতার অতল গভীরে ডুবে যায়
একটি হারানো মহাদেশের মতো।
আমার হাতের রেখার মাঝে লেখা আছে
যে-সব গল্প কেউ কখনো শোনেনি,
অন্ধকারে জন্ম নেওয়া সেই স্বপ্ন
যেগুলো সূর্যালোকে ছাই হয়ে যায়।
আমি আমার তালুর মাঝে ধরে রেখেছি
এক সমগ্র পৃথিবী—
ভগ্ন সভ্যতা, ভাঙা স্মৃতিস্তম্ভ,
মৃত কবির অসমাপ্ত পঙক্তি।
আমি জানি, এই হাতের ভাঁজে একদিন
সমস্ত কিছু মিলিয়ে যাবে—
সময়, প্রেম, অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস।
তবু, এই হাতের রেখায় আজও
একটি নতুন পৃথিবীর স্পন্দন বেঁচে থাকে।
০৩-০৪-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।