সমান্তরাল স্বপ্নের অনিবার্যতা
- পঙ্কজ শীল
কোনো এক চতুর্থমাত্রিক ক্লান্ত বিকেলে, আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম সময়ের অনন্ত অক্ষরবৃত্তে, যেখানে মুহূর্তগুলো কেবল নিঃশ্বাস নয়—একেকটা অস্তিত্বহীন চেতনার ছায়া। মনে হচ্ছিল, পৃথিবী আর আমি, দুজনেই কেবল একটি ভুল উচ্চারণের ফসল। এ এক অনন্ত গদ্যের প্রান্তসীমা, যেখানে ব্যাকরণ নেই, শুধু ধ্বংসপ্রবণ বাক্য-সংকেত।
চেতনার গহ্বরে তখনও বাজছিল কোনো অদৃশ্য সংগীত, যার সুরে শব্দেরা মূক হয়ে যায়, অথচ অর্থ হয়ে ওঠে আরও প্রবল, আরও কঠিন, আরও দুর্বোধ্য। আমি শব্দ খুঁজে ফিরি, যাদের কোনো অভিধান ছুঁতে পারে না। তারা জন্ম নেয় নিভৃত সন্ধ্যার গোপন অনুরণনে, ঠিক যেমন স্বপ্নেরা জন্ম নেয় না, কেবল বিকৃত হয় বারবার।
ভাষা তখন আর বহন করে না অনুভূতির ভার; সে নিজেই এক পরিহাস, এক জটিলতা—নিজেকে বুঝতে চাওয়া একটি আয়নার অপচেষ্টা। যেখানে আমি নিজেকে দেখি, অথচ প্রতিফলনে আমি নই। হয়তো আমিই এক অদৃশ্য প্রশ্ন, যার কোনো উত্তর নেই, শুধু আরো প্রশ্নের বহুমুখী বিস্তার।
আমি লিখি না, কেবল নিঃশেষ হই—প্রতিটি অক্ষরে, প্রতিটি ছেঁড়া বাক্যে। কারণ গদ্য তো কখনোই পংক্তিমালা ছিল না; সে ছিল এক কুহেলিকাচ্ছন্ন স্তব্ধতা, যা কেবল সেইসব পাঠকের জন্য, যারা শব্দের ভেতর শব্দের অনুপস্থিতি খুঁজে পেতে চায়।
০৫-০৪-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।