মনে পড়ে---
- শেখ মাফিজুল ইসলাম
-
চৈত্র মাসে উড়িয়ে ধূলো, শুকনো পাতার সঙ্গে নেচে,
হারিয়ে যেতাম নদীর কিনার; শরৎ-আকাশ গাঢ়-যে নীল,
হাত-ইশারায় ডাকতো তখন, স্বর্ণ-গলা মেঘের মিনার;
কাশ-কন্যা হতে তুমি কাঁশের বনে দাঁড়িয়ে একা,
জলের ওপর করতো খেলা অস্তমিত সূর্যরেখা।
মনে পড়ে? শীতের সকাল, শীতের কোপে জড়োসড়ো,
হরেক রকম রসের পিঠা, রোদ পোয়ানো সকাল বেলা।
শীতের দিনেও মেঘলা আকাশ, জীবন নিয়ে করতো খেলা।
খেলার পুতুল ভাঙলো বলে কেঁদে-কেটে বুক ভাসাতে;
ছোট্ট মেয়ে বউটি সেজে মা-খালাদের খুব হাসাতে।
হঠাৎ যেদিন ছুঁয়ে দিলে, অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলে;
বুঝিয়ে দিলে- টগবগে এক যুবক আমি।
তোমার চোখে দারুন দামী। ভাসতে পারি ইচ্ছা যদি,
তোমার চোখে প্রেমের নদী। বয়ে চলে অদ্যাবধি।
মনে পড়ে?
এলো এক বর্ষা-বিকেল, সোনা-রোদ মেঘের ঝিলিক;
হরিণ-চোখে দাপিয়ে গেলে, মনের সেই সবুজ বাগান;
বুকে জমা স্বপ্ন কত, হাসি মুখ অবিরত, আসলে কাছে।
চোখের কোণে দুষ্টু হাসি, ‘ভালোবাসি’-এ কথাটাই বুঝিয়ে দিলে।
উদ্ধত বুক, মিষ্টি চিবুক, রঙিন-যে সুখ, মন ছোঁয়ালে।
বৃষ্টি-ভেজা নীল-যে আঁচল, হলুদ কামিজ, সবই ছিল;
ফিরলো না সেই হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো;
শৈশবে যা জমা ছিল, তোমার-আমার মনের ভেতর।
মনে পড়ে?
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।