মায়ের চরিত্র
- বেলাল হোসেন খাঁন

মায়ের চোখে সবাই সমান
কতটুকু ঠিক,
একটুখানি দেখে আসি
ইহার নানা দিক।

আমি যখন ছোট্ট ছিলাম
দেখে ছিলাম যা,
কৈশোর কালের দেখার সাথে
মেলেনি যে তা।

ছোট্টবেলায় দেখতাম সদা
আমার দাদি মা,
ফুফুর জন্য পুড়তো তাহার
একটু বেশি গা।

কিশোরকালে দেখলাম আবার
চাচার প্রতি টান,
বাবার সম্পদ চুরি করে
করতো তাকে দান।

কৈশরেতে পুরাই ফিদা
দেখে তাহার কাজ,
বাবার জন্য ফুফুর কাছে
ভিক্ষাতে নাই লাজ।

যৌবনেতে আমার কাঁধে
দিয়ে গেলো চাপ,
দেখে রাখিস তিনটি প্রাণী
ফুফু চাচা বাপ।

মাদ্দাহ কথা যেই বিপদে
তাহার জন্য‌ই মা,
সুস্থ সন্তান ঠকাতে তাই
পিছপা সে হয় না।

১৫ মে ২০২১খ্রিঃ। আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
সত্য অনুসন্ধানী


১৫-০৫-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

১৫-০৫-২০২৫ ০৭:৫৮ মিঃ

প্রবন্ধ: 'মায়ের চরিত্র'—এক নির্মম সত্যের কবিতাভাষ্য

কবিতা: মায়ের চরিত্র
কবি: বেলাল হোসেন খাঁন
লিখিত: ১৫ মে ২০২১, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম

ভূমিকা

'মা' শব্দটি আমাদের সমাজে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন। মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ, এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি—এসবই তাকে এক অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করে। তবে কবি বেলাল হোসেন খাঁনের কবিতা "মায়ের চরিত্র" এই প্রচলিত ভাবনার গায়ে এক প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেন। কবিতাটিতে একজন সন্তানের চোখ দিয়ে দেখা তার মায়ের পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং পারিবারিক জটিলতার বাস্তব অভিজ্ঞতা খুব সাবলীল অথচ ব্যথাতুর ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

কবিতার সারাংশ

কবিতাটি সাতটি স্তবকে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি স্তবক জীবনের একটি পর্যায়কে প্রতিনিধিত্ব করে—শৈশব, কৈশোর, যৌবন এবং পরিণত উপলব্ধি।

প্রথম স্তবকে কবি প্রশ্ন করেন, “মায়ের চোখে সবাই সমান / কতটুকু ঠিক?”—এই প্রশ্নই কবিতার মূল সুর।
শৈশবে কবি দেখেছেন তার দাদির প্রতি মায়ের পক্ষপাত, কৈশোরে চাচার প্রতি অতিরিক্ত মমতা এবং যৌবনে সেই মায়ের কাছ থেকে নিজের জন্য দায়বদ্ধতা ছাড়া আর কিছু না। শেষদিকে মায়ের স্বার্থরক্ষার প্রয়োজনে কবিকে ‘ঠকিয়ে’ দিতেও কুণ্ঠিত হননি—এই অভিজ্ঞতা এক করুণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

চরিত্র ও প্রতীক

মা, দাদি, ফুফু, চাচা, বাবা—এই পারিবারিক চরিত্রগুলো যেন একেকটি প্রতীক হয়ে উঠে এসেছে। মা এখানে কেবল একজন নারী নন, বরং একজন সামাজিক ভূমিকার ধারক, যিনি কখনো ত্যাগী, আবার কখনো হিসেবি এবং ক্ষমতা রক্ষায় সচেতন। চাচা ও ফুফুর প্রতি পক্ষপাত, বাবার সম্পদে হস্তক্ষেপ এবং সন্তানের কাঁধে দায় চাপিয়ে দেওয়া—এসবের মাধ্যমে কবি শুধু একজন মায়ের নয়, পুরো একটি সমাজব্যবস্থার সঙ্কট তুলে ধরেছেন।

ভাষা ও কাঠামো

কবিতাটি সরল ভাষায় রচিত, তবে এর আবেগ গভীর ও ব্যক্তিগত। প্রতিটি স্তবক ছোট ছোট ছন্দময় চরণে বিভক্ত, যা কবিতাটিকে গীতল করে তুললেও তার ভেতরের রূঢ় সত্য কখনো কোমল হয়ে ওঠে না। এটি গদ্যছন্দের ধাঁচে হলেও ছন্দের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা হয়েছে।

মূল বার্তা ও তাৎপর্য

এই কবিতাটি কোনো মায়ের প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং একজন সন্তানের উপলব্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মম এক সত্যের অনুধ্যান। কবি দেখিয়েছেন, ভালোবাসার আড়ালে কখনো কখনো স্বার্থ, হিসেব, এবং আত্মকেন্দ্রিকতা লুকিয়ে থাকে। “সুস্থ সন্তান ঠকাতে তাই / পিছপা সে হয় না”—এই চরণ শুধু কবির ব্যক্তিগত বেদনা নয়, বরং অসংখ্য সন্তানের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধি।

উপসংহার

"মায়ের চরিত্র" কবিতাটি একটি সাহসী পদক্ষেপ, যেখানে মায়ের সেই মুখোশ উন্মোচিত হয়, যেটি আমরা দেখতে চাই না বা স্বীকার করতে চাই না। এটি একটি আত্মস্মৃতিমূলক কবিতা, আবার একইসাথে একটি সামাজিক দলিল। বেলাল হোসেন খাঁনের এই কবিতা পাঠককে শুধু আবেগ নয়, প্রশ্ন, ব্যথা ও উপলব্ধির ভেতর দিয়ে যেতে বাধ্য হয়।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026