হয়তো এটাই শেষবার
- ফারহান নূর শান্ত
শেষবার কবে বলেছিলাম,
ভালোবাসি ?
শেষবার কবে বাবার চোখে চোখ রেখে বলেছিলাম,
সন্তান হিসেবে আমি তোমাকে,
কিছুই দিতে পারিনি।
না ভালো ফলাফল,না গর্ব করে বলার মতো কিছু।
আম্মা যখন কোনো কিছু জিজ্ঞেস করে,
আচমকাই চেঁচিয়ে উঠি।
আজকাল আম্মা একই কথা বেশ কয়েকবার বলে!
সকালে যে কথাটা আমাকে জানায়,সেটা পরবর্তীতে
আরও কয়েকবার বলে।
বয়সটা যে বেড়ে চলেছে,সেটা আন্দাজ করতে পারছি আজ।
এখন আর সুঁই এ সুতা ঢোকাতে পারেনা চট করেই।
সেলাই করতে গেলেও,নকশাটা আগের মতো নিখুঁত করতে
বড্ড খাটুনি যায় তার।
কতবার ভাবছি ,
এই তো শুক্রবার এলে,
বিকেলে কারোর সঙ্গে বসে একটু চা খাব।
হুট করেই কাউকে কল করে বলবো - চলে আয় ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে।
হয়নি।
শুক্রবার এলো ,ঈদও চলে গেল
আমি ঘুমিয়েছিলাম।
মিথ্যের এক অবসরের ঘুমে।
একটা মেসেজের অপেক্ষায় থাকি,
”তুই ঠিক আছিস তো?
আজকাল তোর কবিতা পাচ্ছিনা কেন?”
হ্যাঁ, ঠিকই আছি নিজের মতো।
কিন্তু ,কবিতা আর আমি আড়ালে চলে গেছি।
যারা নিজে থেকে সবার খোঁজ নিয়ে বেড়ায়,
তারা একটু চুপ করে গেলে - তাদের খোঁজ কেউ নিতে আসেনা।
যারা একটু মানিয়ে নিতে জানে,
তাদের সাথে কেউ মানিয়ে চলতে চায় না।
দায়িত্বশীল মানুষদের জীবনে,
বেশীর ভাগই - দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ জোটে।
জীবন আসলে কিছু না,
মাঝপথে ফেলে যাওয়া একটা গল্প।
কিংবা স্তব্ধ হয়ে থাকা।
যেখানে শেষটা মৃত্যু,
এছাড়া আর কিছু জানা যায় না।
আমরা ভাবি অনেক সময় হাতে।
ভাবি,মানুষগুলো হয়তো থাকবে।
অথচ প্রশ্ন করিনা - আগামীকাল কি সত্যি আসবে জীবনে?
তারপর আগামীকাল সবার জন্য আর আসে না।
তাই ভাবো,
যদি এখনো কেউ বাকি থাকে,
একটা ফোন, একটু হাসি, অভিমান থেকে অভিযোগ ভাঙানো,
একটা আলিঙ্গন,একটুখানি সাক্ষাৎ,কাঁধে হাত রাখা, খানিক বোঝার চেষ্টা,
মানিয়ে নেবার ইচ্ছা,
কিংবা তাদের খোঁজ নেওয়াা , সাড়া দেওয়া।
দেরী কোরো না।
যদি সুযোগ না মেলে আর,কে জানে!
হয়তো এটাই শেষবার।
১৪-০৬-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।