মুগ্ধতার অবশিষ্ট
- ফারহান নূর শান্ত
তুমি চলে যাচ্ছো,
তবু তুমি যেন যাওনি।
পরিপাটি,গোছানো মানুষ তো-
যাওয়ার সময় বলে যায় 'বেশ' 'ভালো থেকো তবে'।
তুমি কিছু বলো নি।
কেবল দরজাটা টেনে দিয়ে চলে গেলে।
চৌকাঠে, দরজার পাল্লাটা ধাক্কা লাগার শব্দে
আমি বুঝে গেলাম - তুমি বিদায় নিয়েছ।
তোমার ঘামে ভেজা হাতের ছাপ,
দরজায় আবছা লেগে আছে।
আমি মুছিনি।
বিছানার পাশে,ছোট্ট টেবিলের ওপর রাখা মগে
তোমার ঠোঁটের দাগ আঁকা ছিল।
আমি মুছিনি।
ড্রেসিংটেবিলের বাঁ পাশে,
তোমার খুলে রাখা কয়েকটা টিপ রয়ে গেছে।
আমার রুমালে,তোমার লেপ্টে যাওয়া কাজলের
বাতিল অংশটুকু লেগে আছে।
আমি মুছিনি।
গোসল করার পর, যে তোয়ালেটা দিয়ে তুমি,
তোমার শরীর মুছেছ - সে ভেজা তোয়ালে
এখনও বান্দায় ঝুলছে।
টুপটাপ করে,তোমার গায়ের সেসব জলের ফোঁটা -
আমার বারান্দার জমিনে পতিত হচ্ছে।
আমি মুছিনি।
রান্নাঘরে এঁটো থালাবাসন,
পাঁটার মাঝে থেতো করা রসুনের গন্ধ।
কিংবা চামচের সাথে তোমার চুড়ির শব্দ,
এখনো আমার কানের কাছে বেজে চলেছে।
যাওয়ার আগে,
আমার জন্য তুমি ভাত বেড়ে রেখে গেছ।
ঝাল বেশি,টলটলে ঝোলের তরকারি।
সাদা ভাত শুধু মুখে নিয়ে দেখি -
এ প্রথম তুমি ভাতের মাঝে নুন দিয়েছ।
যে নুন,তোমার চোখের সমুদ্র থেকে
ভাতের হাড়িতে নেমেছিল।
তোমার বিষাদজলে রান্না করা সেসব খাবার,
আমি চুপচাপ খেয়ে নিলাম।
তুমি বলেছিলে,
মুগ্ধতা কেটে যাবার পর - একত্রে থাকাটা
বড্ড বেশি চ্যালেঞ্জিং।
আমি জানিনা,
তোমার মুগ্ধতা কেটে গেল কিনা!
কিন্তু আমি,
এই আমি -
তোমার চলে যাওয়ার পরও
এখনও, তোমার থেকে যাওয়ায় - মুগ্ধতার ঘোরে আছি।
তোমার শরীর প্রস্থান নিয়েছে হয়তো,
তবে,তোমার চলে যাওয়ার মাঝে
ভীষণরকম থেকে যাওয়া অনুভব করছি।
আসলে,
শরীর বিদায় নিলেও -
মানুষের মন, তার অস্তিত্ব , গায়ের গন্ধ ,
বাসনপত্র, ঘরের আনলা, চিরুনি ,
বাজারের পুরোনো ফর্দ , বিছানার কুঁচকানো ভাঁজ ,
সঙ্গমের উষ্ণতা , ক্লান্তি , আর -
দুজনের জড়িয়ে থাকার মুহূর্তরা বেঁচে থাকে।
বাঁচিয়ে রাখে সব।
২৮-০৬-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।