ফুসফুসের কান্না
- ফারহান নূর শান্ত

তারপর,
হঠাৎ একদিন -
গাছে কুড়াল দিয়ে আঘাত করার পরপর
আমার ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেল।

গাছের শেকড়ের কাছে,
জোরে করাত বসানোর সাথে সাথে -
আমার পায়ের শিরা উপশিরা থেকে,
রক্তের ধারা - ভাসিয়ে নিয়ে গেল।

ডালের কোণে,
দা দিয়ে কোপানোর পর -
আমার হাত - দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

আমি শ্বাস নিতে পারছি না।
ফুসফুস চুপসে গেছে,
হৃদপিণ্ড থেমে গেছে,
আমি শুনতে পাচ্ছি - ধ্বংসের অট্টহাসি।

সর্বনাশ,
নিজেই শিকার আজ।
নিজেই ফাঁদে পড়ে গেলাম।

শকুনের তীক্ষ্ণ দাঁতের কাছে,
ঠাঁই হলো আজ হাতের আঙুলের।

বায়ু আজ ভার হলো না,
গাছেরা সব মহোৎসবে মেতেছে।

এ ক্ষয়,
আমার অবক্ষয়ের ফল।

মাটিও ঠাঁই দিতে চাইছে না,
'সর,সরে যা।ভূমি থেকে শূন্যে ভেসে থাক।'

আমার জন্য খোড়া কবরের মুখ,
অচিরেই বন্ধ হয়ে গেল।
আমি জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না।
না জমিতে,না শূন্যে।

পৃথিবী,প্রকৃতি সয়ে সয়ে নিতে জানে,
তবে- যেদিন তারা চোখ রাঙাবে,
সর্বনাশের সাথে করে নেবে আলিঙ্গন,
ক্রোধ,শোধে - শক্তি যুগিয়ে নেবে
সেদিন আমি,আমাদের পরিণতি হবে বীভৎস।

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল।
জানালার পর্দাটা সরিয়ে,দূরে দেখে নিলাম-
গলির মোড়ের কড়ই গাছটা ঠিক আছে কিনা।

লম্বা দম নিয়ে,
ফুসফুস ভরে নিলাম ভোরের সতেজ অক্সিজেন।

যাক,বাঁচা গেল।


০৭-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।