আঁচলে ঝরা মেঘ
- ফারহান নূর শান্ত
আচঁলে ঝরা মেঘ
- ফারহান নূর শান্ত
আমার হাসির কাছে ভীড় করে এসে,
নীলাভ শাড়ি।
বাহারি আঁচলে শুভ্রতা মেখে মুগ্ধতা ছড়াই।
চোখের কাজল রেখার সরুপথ বেয়ে,
হেঁটে বেড়াই কিছুকাল।
আজন্ম সাধ আমার,
মুখে লেগে থাকুক নরম রোদের উষ্ণতা,একটা মুহূর্ত।
যেখানে প্রতিবেলা আমাকে আমি হাসতে দেখি।
আয়নাকে বড্ড আপন লাগে আমার।
গত বৈশাখের খুলে রাখা টিপ,
আয়নার এক কোণায় লাগিয়ে রেখেছি।
ইচ্ছে হলেই ওড়নাকে শাড়ির আঁচল ভেবে
ঢেকে নিই নিজের খোঁপার চুল।
এখনও খুব মনোযোগ নিয়ে শাড়ির সাথে,
চুড়ির রঙ মেলাই।
কোমরের হালকা জমে আসা মেদ,
আলগোছে ঢেকে ফেলি।
বৃষ্টি এলে আমার সাজতে ইচ্ছে করে না,
বৃষ্টি হলে আবার সাজগজো কিসের হ্যাঁ!
কানে কাঠগোলাপ গুঁজে,
চলে যাই ছাদের এক কোণে।
ভেজা সুবাসের নেশায় চোখ বুজে থাকি।
পায়ের কাছে ভীড় করা বৃষ্টির জলে,
ভিজিয়ে নিই পায়েলের শরীর।
হাতের তালুতে দেয়া গাছের মেহেদির রঙ
বৃষ্টিতে ভিজে গাঢ় হয়ে উঠেছে।
ওড়নাকে আঁচল বানিয়ে,কুড়িয়ে নিচ্ছি জল,
এ যেন মেঘেদের ঝরে পরাকে আশ্রয় দিচ্ছি ।
ছাদের কোণে বসা কবুতরের ঝাঁক,
ডানা ঝাপটে বৃষ্টির পানি ছিটিয়ে দিচ্ছে মুখে।
ওদের সাথে, এই প্রথম ভেজা হচ্ছে আমার।
বজ্রপাতে, ভয়ে গিয়ে দাঁড়াই ছাদের সিঁড়িঘরে।
মা জানেনা,
বৃষ্টিতে ভিজে এতসব কাণ্ড করে বেড়াচ্ছি আমি,
জানলে একদম খবর করে ছাড়বে!
অথচ, ছাদ থেকে নেমে দেখি
মা - হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে নিচ্ছে বারান্দার গ্রিল ঘেঁষে।
মৃদু হেসে ফেলি আমি,
আমার এতসব কান্ড - ছেলেমানুষি তোমার থেকেই পাওয়া।
হাজার হোক,
তোমারই তো মেয়ে আমি।
১৯-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।