শেষের কবিতার আগে
- ফারহান নূর শান্ত

চলে যাচ্ছে,
হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে কবিতা।

একেকটা জীবন, যন্ত্রণা
না বলা কথা, সকল নীরবতার বাসা বাধা
অলিখিত কিছু চরিত্র, সংগ্রাম-
কিংবা সফলতার গল্প।

হচ্ছে না মোটেই,
লেখা হচ্ছে না, আটকানো যাচ্ছে না ওদের।

যে হাতের মুঠোয় কলম ছিলো,
ছিলো দু'চোখ ভরে দেখা, বিচিত্র জীবনের কথা-
সব হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

কবিতার পেছনে ছুটতে ছুটতে,
চুলদাড়ি কাটতে ভুলে যাওয়া ছেলেটা -
এখনও অগোছালো থেকেই গেলো।
ও ভুলে গেছে ইস্ত্রী করা কাপড় পরতে,
কোনো রকমে ফতোয়ার হাতাটা এক টানে-
কনুই অবধি তুলে হাঁটা শুরু।
গতবছর বই বের করা হয়নি, ছুট ওদিকেই।

আজ প্রকাশকের কাছে তো কাল প্রচ্ছদ,
ওদের কখনও কখনও সহ্য করা যায় না,
যা খুশি তাই বাদ দিয়ে দিচ্ছে।
ওরা কি করে বুঝবে, একেকটা লেখার পেছনে ছুটতে ছুটতে
নিজেকে হাজার বার নতুন করে আবিষ্কার করতে হয়।

এসবেই হারিয়ে যায় একটা জীবন,নিয়ন্ত্রণ
জীবনের গল্প, চুলদাড়িতে ঢেকে যাওয়া পাগলাটে লেখক।
সব হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

গ্রীষ্মের ঝড়ে,
বইয়ের দোকানিরা কি কষ্টটাই না পোহালো।
একে তো ঝড়, তার ওপর ভারী বৃষ্টি-
পুরো বই পাড়ায় পানির দাপট ছিলো,
ভাসানের - ডোবার।

যে বই পড়ে লোকে মনোরঞ্জন করে, শেখে
সেসব নামধারী শিক্ষিত গণ্ড মূর্খেরাই গাছ কেটে প্রকৃতিকে
চঞ্চল করে তোলে।
ঐ, নেমে আসে ঝড় বৃষ্টি
আর ভেসে যায় বইয়ের দোকান।

এরচেয়ে বইয়ের মলাটে ধুলো জমে থাকাটা শ্রেয়,
না পড়ুক ওরা,
আদতে পড়েও যখন, দু চার পয়সার জ্ঞান মগজে ঢোকাচ্ছে না-
তখন ধুলোয় মোড়া থাকুক ওসব ।
সব হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

ভাবতে পারার ক্ষমতা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে এলে,
একটা ফাকা পাতাকে পৃথিবীর সবচেয়ে শূন্য জায়গা মনে হয়।
চাইলেই হিজিবিজি কিছু একটা ভেবে লিখে ফেলা যেত,
অথবা, কলমের কাটাকুটি খেলা।

যে পাতায় স্কেল টেনে এঁকে ফেলা যেত ছোট্ট ঘর,
পতাকা, মা'য়ের হাতের চুড়ি দিয়ে পতাকার গোল অংশটুকু।
এতকিছু থাকার পরও আজ বড্ড বেশি শূন্যতা এখানে,
হাতছাড়া সব।
সব হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

বৃষ্টিতে ভেজা এক নারী,
মধ্য দুপুরের কপালের ঘাম আসা মুহূর্তে
জানালার গ্রিলে মাথা ঠেকিয়ে, দূরে তাকিয়ে আছে।
ভাবনার রাজ্য একটা ছেলে, রোজ দুপুরে চোখের সামনে
দিয়ে হেঁটে যায়।

পরনে জিন্স প্যান্ট, ঢিলেঢালা ফতোয়া, বাঁ হাতে ঘড়ি।
ছেলেটা বড্ড ঘেমে যায়- কপাল, নাক
খানিক বুকটা ভেজা ভেজা ঘামে, রোদ সইতে পারে না ও।
তবুও ছুটে চলার তাগিদে চলতে হয় তাকে।

মেয়েটার বড় ইচ্ছে, তাকে দূর থেকে ডাক দেবে,
যে ডাকের আওয়াজ কারোর কানে যাবে না,
কেউ শুনতে পাবে না।
শুধু ছেলেটা শুনবে, হাঁটা থেমে যাবে
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখবে তাকে।

কেউ কি ডাকলো, নাকি মনের ভুল
এই ভেবে এদিক ওদিক তাকাবে।
মেয়েটা ছেলেটাকে নিয়ে তার বাড়ির পুকুর ঘাটে বসে থাকবে।
একে তো মধ্য দুপুর তার ওপর রোদের তেজ,
পাশে ওমন একটা মানুষ বসে থাকলে
ওসব রোদটোদ কি আর গায়ে লাগে নাকি।

বসে থাকা সে সময়ে, চোখের কারসাজি চলবে বেশ।
বুঝতে চাওয়া না চাওয়ার মাঝেই কেটে যাবে মুহূর্ত।
বৃষ্টি হলে মন্দ হতো না,
ছেলেটার কপাল আজও ঘেমে আছে।
মেয়েটার অবশ্য বেশ ক'দিন ধরেই ঠান্ডা লেগে আছে।
বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বরও আসতে পারে,
তবে ওমন একটা মানুৃষের পাশে বসে বৃষ্টিতে ভিজে যদি জ্বরও বাধানো যায়,
তাতেও এক শরীর ভরা উষ্ণ সুখ।

হঠাৎ দমকা হাওয়ায়,
বুকশেলফ থেকে একটি বই পড়ে গেলো।
'শেষের কবিতা'
ভাবনার রাজ্য থেকে চমকে ফেরা,
এই বুঝি-
ফের হাতছাড়া।

কী অদ্ভুত!
যা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি প্রাণপণে,
তাই একে একে সরে যায় দৃষ্টির আড়ালে।

একেকটা মুহূর্ত,
একেকটা পৃষ্ঠা, সাদা পাতাদের ভীড়,
ভেসে যায় অদেখা জলে।

সব হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
সব হাতছাড়া হয়ে গেলো ।


২১-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026