বনলতার পথে
- ফারহান নূর শান্ত
খুঁজে চলেছি মাঠ,
খুঁজে চলেছি আনমনে হঠাৎ।
সেই মাঠের বুকের কোমল নরম ঘাস,
যার গোড়ায় মিশে আছে ভেজা মাটি।
যে মাটির বুকে পরশ মেখেছিলো বনলতা সেন।
যে বনলতার জন্য জন্মেছিলো,
কবিতা।
তার চোখে ছিলো শব্দহীন রূপলাবণ্যের ভাষা,
তার দিকে তাকিয়ে চুপ করে যেতো বসন্তের কোকিল।
তার কাঁধে ভীড় করতো প্রজাপতির দল।
সেই রূপলাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে, কোনো কোনো দিন আমি লিখে ফেলি —
অপ্রকাশ্য বিমোহিত চিঠি।
কতখানি ভালোবাসায় মগ্ন হলে,
তাকে ভেবে বিস্মিত হলে—
যত্ন করে কাউকে কবিতায় ফুটিয়ে তোলা যায়!
আমার কলম চুপ করে রয় ।
বনলতার নিঃশ্বাসে কি এখনো শিশিরের শব্দে সন্ধ্যা নেমে আসে?
ডানা রোদ নিয়ে কি বাড়ি ফেরে চিল?
তার কথা ভেসে বেড়াতো নাটোরের প্রত্যন্ত নৈসর্গিক পরিবেশে।
জোনাকির আলো গিয়ে পড়ে তার কোমল গালে।
যতই লেখা হোক, কথা শব্দের কম পড়ে যায় —
শব্দও বুঝে নিক, বনলতা দেবে না কবিতার পুরো আয়ত্তে।
জীবনানন্দ, কি করে যে লিখে ফেললেন,
সেই ভেবে আমারই আফসোস হয়!
খানিক ঈর্ষাও জন্মায় মনে।
কিন্তু সেই আফসোসই তো কবিতা হয়ে ওঠে,
মনে জাগিয়ে তোলে প্রেম, কল্পনার কত অবয়ব।
শুধু বনলতা নয়,
তাঁর ভাবনায় খুঁজে বেড়ায় কতজনে —
কত হারিয়ে যাওয়া মানুষ
হারিয়ে ফেলা মুখ!
২৫-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।