রক্ত
- জিহাদ আমিন

রক্ত
-জিহাদ আমিন

কে যেন হঠাৎ দরজায় খটখট করিয়া আঘাত করছে,ধীরে ধীরে শব্দের গতি ক্রমেই বেড়েই চলছে,কে এই অসময়ে আমায় খুঁজতে আসবে,তাছাড়া বহুকাল ধরে এই নগরীতে শুধুই একেলা একাই আমার বসবাস,সাক্ষী কাল মহাকাল ইতিহাস, কেউ এসে আমায় খুঁজবে নিজেকে আমি কিছুতেই করাতে পারছিলামনা বিশ্বাস।

আওয়াজ আরো গতিবেগে বেড়েই চলছে,মনে হয় কে যেন আমায় ডেকে ডেকে কি যেন বলছে,আমিও নির্ভয়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলতে লাগলাম,একি এমন কেন দরজাটা খুলতেই চারিদিকে ঘন কালো ঘোর অন্ধকার আর অন্ধকার কানের মাঝে যেনো ভেসে আসছে ভয়ংকর বীভৎস চিৎকার ,পিছনের দিকে ঘুরে তাকাতেই দেখি কই কিছুই তো দেখা যাচ্ছে না এতক্ষণ তো এখানে আলো জ্বলছিল টেবিলের উপর পড়ে ছিল আমার হাত ঘড়ি পাশে পানির গ্লাস এখন আবার এমন একি হলো এতো আঁধার কেন আমি তো কিছু দেখতে পাইতেছিনা সর্বত্র শুধুই ঘোর অন্ধকার।

হঠাৎ মনে হল কে যেন বলছে কেঁদে কেঁদে বলছে আমায় ছেড়ে দাও আমি বাঁচতে চাই আমি বাঁচতে চাই...আমি পাপী মহাপাপী আমি বিশ্বাস ঘাতক হ্যাঁ আমিই করতে চেয়েছিলাম তোমার সর্বনাশ, করিওনা চিরতরের জন্যে আমার জীবন নাশ আমায় ক্ষমা করো শেষ বারের মত আমায় ছেড়ে দাও...
অন্ধকারে মাঝেও নিজের হাতটা ভেজা ভেজা অনুভব করলাম,আলো নেই বলে হাতে কি তাও দেখার সুযোগ নেই,হাতটা নাকের একটু কাছে এনে তাহার গন্ধ বুঝে অনুভব করতে চাইলাম,একি..কি ভয়ানক এইতো দেখি তাজা রক্তের গন্ধ কই আমি তো কাউকে খুন করিনি তাছাড়া খুন করতেও চাইনি তাহলে আমার হাতে কেন "রক্ত" ...?

ঘন অন্ধকারের এক পা দু'পা করে বাহিরের দিকে পা বাড়াতে লাগলাম যদি কোথাও একটু আলোর দেখা মিলে,কিছুক্ষণ পথ চলার পর মনে হয় সামনে একটু আলো দেখা যাচ্ছে আমিও জোরে জোরে পা বাড়াতে লাগলাম,না এই চেষ্টাও ব্যর্থ হলো,অন্ধকারে মাঝে যা আমি আলো ভেবেছিলাম তা হল একটি জোনাকি পোকা যাকে আমি আলো ভেবে খেয়েছিলাম ধোঁকা,উপর হতে আমার শরীরে কিছু একটা পানির মত পড়তে লাগলো এতক্ষণ পরে আমি নিজের ভিতর কিছুটা ভয় অনুভব করতে লাগলাম এটাও আবার রক্ত নয়তো!শরীরে কি পড়ছে সেটা দেখার আগেই পড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে ততক্ষণে জোনাকিটাকে হারালাম।

এই অন্ধকার কবে শেষ হবে নাকি চিরকাল এভাবেই রইবে,কেউ কি বলবে আমায় এখন কি রাত নাকি দিন,তাছাড়া রাত যদি হতো এতক্ষণে তো ভোর হবার কথা,আমি তো আলোর কোন চিহৃই দেখতে পাইতেছিনা,
আবারও কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম,ও যেন বিড়বিড় করে কি যেন বলছে আরেকটু সামনের দিকে গিয়ে আমি তা শুনার চেষ্টা করতে লাগলাম...
আমায় মেরে পেলো এই মুখ আমি আর কাউকে দেখাতে চাই না, আমি আর বাঁচতে চাই না,এই জগৎ সংসারে আমি কারো আপনজন নয় আপন হতেও পারিনা,আমি পাপী মহাপাপী আমি কারো রক্তের ভাই না,আমার শরীরের সব রক্ত দূষিত,আমি পাপী আমি ঘৃণিত।

জানো ওরা আমায় অনেকে বিশ্বাস করতো,ভীষণ ভালোবাসতো আমার খুশিতে প্রয়োজন হলে নিজ হতেই জেনে বুঝে ওরা হারতো,আর আমি এই কি করেছি, ওদের গলায় উপর পা রেখে আমি ওদের মেরেছি।
কি করবে তারা এমন জীবন দিয়ে যে জীবন বেঁচে থেকেও মৃত,আমার দেওয়া আঘাতে আঘাতে ধৈর্য্যের সীমানা পেরিয়ে লোক লজ্জার ভয়ে নিজেদের জীবন নিজের দু'পায়ে মাড়িয়ে করেছে ক্ষত বিক্ষত,এটাও কেও কি কেউ বেঁচে থাকা বলে।

কে ওখানে কে, কে কান্না করছে কই কাউকে তো দেখছিনা,পায়ের তলায় কিছু একটা যেন অনুভব করছিলাম মেঘে ঢাকা আসমানের হঠাৎ মেঘ আড়াল হতেই চাঁদের আলোয় পুরোপুরি ঠিক দেখা যাচ্ছে পুরো জায়গা জুড়ে শুধুই রক্ত আর রক্তে ভরে গেছে।
একি রক্ত এত রক্ত এখানে কোথা থেকে এলো তাছাড়া আমার দু'হাত রক্তে ভেসে গেছে,কই আমি কাউকে খুন করিনি আমি কাউকে খুন করতে পারিনা আমি খুনী নয় তাহলে আমার হাতে এত রক্ত এলো কোথা থেকে।

কিছুই ভেবে কূল পাচ্ছিনা,কেন এইসব হচ্ছে তাছাড়া আমার সাথেই বা কেন,
যাকে এতক্ষণ তো চাঁদের আলো ছিল এইবার বুঝি তাও হারালো,আবারো মেঘের আড়ালে চাঁদ ঢাকা পড়লো,ফিরে সেই আগেই মতোই অন্ধকার ঘন কালো অন্ধকার,আমি কোন দিকে পা বাড়াবো সেটাও ঠিক ভেবে পাচ্ছিনা,
না কি এই অন্ধকারে মাঝেই নিজেকে হারাবো।

সকল ভাবনার শেষে অজানার পথে ধীরে ধীরে পা বাড়াতে লাগলাম,না জানি কখন কি বিপদ ঘটে আমার যে এই পথও শেষ করতে হবে বটে, সামনের দিকে দু'চোখ যতদূর যায় একবিন্দু পরিমানের মতোও কিছুইতো দেখতে পাইনা।

এভাবে আরো কিছুটা পথ হাঁটলাম
হাঁটতে হাঁটতে আবারও কে যেনো কাঁদছে,
খুবই ছোট ছোট শব্দে মনে হলো যেন এক ছোট্ট শিশুর কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে,
কে ওখানে কে..কেন তুমি কাঁদছো...?
উত্তরে...আমি বাবা আমি..আমি মোহনা তুমি আমাকে ছিনতে পারোনি বাবা আমি তোমার মেয়ে মোহনা সেই ছোট্ট মোহনা,তুমি কোথায় ছিলে বাবা এই বুঝি তুমি এলে...
দেখ বাবা দেখ ওরা আমাদের কি অবস্থা করেছে,আমার চোখের সামনেই আমার মায়ের জীবনও ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে,আমি পারিনি বাবা আমি পারিনিও ওদের রুখতে,হায়নার দলেরা অবশেষে আমার মা কে দেয়নি ওরা বাঁচতে।
জানো বাবা আমি কতবার ওদের পায়ে জড়িয়ে ধরছি ধরে ধরে কেঁদেছি তবুও ওদের একটু দয়া হয়নি,আমার হাত দু'টিও মনে হয় ভেঙ্গে গেছে,ওরা আমায় দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো, কি অপরাধ ছিল আমার কি অপরাধ ছিল আমার মায়ের।
দেখ দেখ বাবা ওইতো আমার মায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে,মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্তও তোমায় ডেকেছিল, আর কান্না ভরা কন্ঠে বলতেছিলো আমি চলে গেলাম খুকি তুই তোর বাবারে দেখে রাখিস,আমি সঠিক ভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারিনি,কি জবাব দিবো আমি পরপারে গিয়ে বিধাতার কাছে,
তিনি তো কখনোই আমাদের প্রতি কোন প্রকার দায়িত্বও ভালোবাসার কমতি রাখেননি।

কাঁদিসনা খুকি তুই আর কাঁদিস না,আমি যে তোর কান্না সহ্য করতে পারতেছিনা,বাবা তুমি কি আমার মায়ের হত্যার বিচার করবেনা,
কথা দাও বাবা তুমি আমায় কথা দাও,তুমি নিজ হাতে ওদের শাস্তি দিবে তুমি ওদের কঠিন বিচার করবে,এই বলে খুকিও আমায় রেখে চিরদিনের জন্যে এই পৃথিবীর প্রতি ঘৃনা কষ্ট নিয়ে বিদায় নিলো।

আমার আর ফিরে আলোয় ফিরা হলোনা
আমিও এই অন্ধকার ছেড়ে কোনদিনও আলোয় ফিরতে চাই না,আমি খুনী হতে চাই,হ্যাঁ আমি এইবার সত্যিকারের খুনী হতে চাই,আমার দুই হাত রঞ্জিত করতে চাই লাল রক্তে।।


৩১-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026