জীবন যুদ্ধ
- জিহাদ আমিন

জীবন যুদ্ধ
-জিহাদ আমিন

অনেক দিন ধরে ঘরে তেমন কোন খাবার নেই
কোন রকম খেয়ে না খেয়ে জীবন বাঁচে,
আমি না হয় না খেয়ে থাকতে পারি কিন্তু ওরা তো ছোট বাচ্চা ওরা যে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে পারেনা,
আজ যদি ওদের বাবা বেঁচে থাকতো হয়তো এমন দিন দেখতে হতোনা,কে জানে সে বেঁচে আছে কি না মরে গেছে নাকি কোন শিকারির বুলেটের আঘাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে সেই যে গেল আর ফিরে এলো না।

আজ বারে বার শুধু একটা কথাই মনে পড়ে যাবার বেলায় যা বলেছিল...
তোমরা একটু অপেক্ষা কর আমি যাবো আর খাবার নিয়ে চলে আসবো ফিরে সকলি মিলে এক সাথে খাবার খাবো,তোমরাইতো আমার সব আমি চিরকাল তোমাদের পাশে পাশেই থাকবো।

সেই সুখ বুঝি বেশি দিন আমাদের কপালে সইলো না,
কি করবো আমি নিজেই ঠিক বুঝতে পারতেছিনা আশে পাশের অনেক জায়গায় খুঁজেছি কোথায়ও একটু খাবারের সন্ধান মিললো না,উড়তে উড়তে মনে হয় যেন আর পারছিনা এখন প্রায় অনেটাই ক্লান্ত তবুও কে আমার করিবে ক্ষান্ত,প্রয়োজন হলে আমাকে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে,ওরা যে আমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে কখন আমি ফিরবো ওদের মুখে একটু খাবার তুলে দিবো।

বাচ্চাদের কথা মনে পড়তেই এক বার ভাবতে থাকি ফিরে যাবো তাছাড়া খাবার ছাড়া আমি ওদের সামনে কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবো,না না আমি এমনটা করতে পারিনা ওরা যে এখনো না খেয়ে পড়ে আছে,মনের শক্তি বাড়িয়ে আবার সামনের দিকে রওনা হলাম, এভাবে কখন যে নিজের দেশ পাড়ি দিয়ে অন্য আরেক দেশে চলে এলাম বুঝতেই পারিনি,তাও হাল ছাড়িনি আমি যেতেই লাগলাম যেতে যেতে আরেকটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলাম অনেক গুলো পাখি একটি গাছের ঢালে বসে আছে মনের মাঝে একটু শান্তির পরশ অনুভব করলাম নিশ্চয়ই আশে পাশে হয়তো খাবারের কোন ব্যবস্থা রয়েছে এর কারনেই ওরা সকলে মিলে ওখানে জটলা বেঁধেছে,আমিও এক বুক আশা নিয়ে একই গাছের ঢালে গিয়ে বসলাম।

অনেকটা পথ পাড়ি দিবার পর একটু বেশিই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম,তাই আগে কিছুক্ষণ বসে শ্বাস নিতে লাগলাম, এমনি করে নিচের দিকে চোখ পড়তেই চোখে মুখে খুশির ঝলক ফু্ঁটে ওঠলো,আহা এমন খাবার কতদিন ধরে খাইনা,বাচ্চরা পেলে নিশ্চয়ই ভীষণ খুশি হবে,মনে পড়ে ওদের বাবা থাকতে প্রায় রোজই সকলি মিলে এমন খাবার খেতাম,আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন।

সকল ভাবনার শেষে সেই শুভক্ষণ এলো এবার তাহলে নিচে নামা যাক,অন্যদের সাথে আমি শরীক হলাম,একবার ভাবলাম আগে আমি কিছু খেয়ে নিই পেটে অনেক ক্ষুধা পরে মনে পড়লো বাচ্চারা যে এখনো না খেয়ে আছে আমি কিভাবে ওদের রেখে খাই,না এখন এমন বোকামি করে সময় অপচয় করা যাবে না।

ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কোথা থেকে একটি বুলেট এসে লাগলো আমার শরীরে, মনে হল প্রাণ বুঝি গেল,কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পারলাম আমি এখনো জীবিত কিন্তু কিছুতেই উড়তে পারতেছিলাম না,এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম আমার আশেপাশে যারা ছিল তারা কেউই নেই আমি একাই মাটিতে পড়ে রইলাম,তাহলে কি গুলি আমার বুকে না ডানায় লেগেছে,কি করবো তখন কিছুই বুঝতেছিলাম না,সামনের দিকে চোখ পড়তে দেখি একদল শিকারি আমার দিকে এগিয়ে আসছে,এখন আর আমার বুঝতে বাকি রইলোনা এটা ছিল তাদের ফাঁদ,আমি প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করিতে লাগলাম,কিন্তু না অবশেষ আমি আর পারলামনা ওদের হাতে ঠিকই ধরা পরলাম।

জীবন এমনও হয়, জীবন বাঁচানোর জন্যেই বুঝি জীবন দিতে হয়,আর বুঝি কোনদিনও আমার ফিরা হবেনা,নিতে পারবোনা একটি বারের জন্যও সন্তানদের কাছে টেনে বুকে জড়িয়ে,আমি পারিনি ওদের মুখে হাসি ফোটাতে ওদের দুঃখ কষ্টগুলোকে দূর করে জীবনটাকে রঙ্গিন করে রাঙ্গিয়ে তুলতে,কেমন করে পারিবো আমি ওদের ভুলতে,চোখের সামনে ভেসে ওঠছে ওদের ক্ষুধার্ত ভরা মুখ আর দু'চোখের অশ্রু জড়ানো আর্তনাদ হবে কি কোনদিনও এমন জীবন যুদ্ধের অবসান?
নিজের মত করে স্বাধীন ভাবে বাঁচবে এই পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণ।।


৩১-০৭-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026