ছায়ায় মৃত্যু ও নদীর দাফন
- ফারহান নূর শান্ত

একটা নদী শুকিয়ে গেলে,
তার বুক কেটে বালু উত্তোলন করা হলো।
কিন্তু কোনও পত্রিকায় আসেনি খবর,
দেখানো হয়নি টেলিভিশনেও।

একটা গ্রামে অনেকগুলো পুকুর ছিলো,
একে একে ভরাট হলো সব।
কেউ জানতে পেল না!

অথচ, মানুষ, পোষা প্রাণী, জিনিসপত্র হারালে
মাইকিং করা হয়।
করা হয় তুমুল প্রচার।
নদী হারিয়ে গেল, মানুষ গিলে খেল পুকুর
কেউ জানলো না, কেউ আওয়াজ তুলল না।

একটা গাছ কাটা মানে, শুধু কাঠ নয়
তার ছায়া, অক্সিজেন, পাখির বাসা
তার ফলের ভিতরে থাকা
পোকাদের আশ্রয় কেটে ফেলা।

যেন একটু একটু করে ছিদ্র করছে ফুসফুস,
একটু একটু করে কাটছে, ভাঙছে আশ্রয়।

কোনো আদালত নেই এখানে,
কোনো আইনজীবী নেই, নেই বিচারক।

বন উজাড় করা যায় নির্বিচারে,
বন উজাড় করে বাড়াচ্ছে উষ্ণায়ন।
গাছের তো অভিভাবক নেই,
যে কাঁদবে আদালতে দাঁড়িয়ে।

পাখির পাখা ভাঙা যায় নির্বিঘ্নে,
কারণ পাখি তো ভোটার নয়,
দেয় না কোনো কর।
তাকে হত্যা করলে মানবতা লঙ্ঘন হয় না।

এসি চলে, গাছের জায়গায়,
অক্সিজেন কিনি বোতলে।
পয়সায় কেনা সে এসি,
অক্সিজেনের বোতলের, কদর অনেক বেশি।

সে গাছেদের মৃত্যুতে কেউ কাঁদে না।
আর নদী মরে গেলে তো,
তার দাফন করার ব্যবস্থা নেই,
শুধু কিছু জমি হয় - বিক্রির জন্য প্রস্তুত।
যেখানে গড়ে ওঠে বিশাল অট্টালিকা, ছাদবাগান।

যেন সবুজ প্রেমী লোকেরা জানান দিচ্ছে,
তারা কত ভালোবাসে প্রকৃতি!
ফ্ল্যাটবাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে, ওরা দেখছে
পেছনের মাঠে একটা নিথর গরু, ফাটা মাটির জমি
আর মেহগনি গাছের ধুঁকতে থাকা শেকড়।

কিন্তু শহর একদিন ফুপিয়ে কাঁদবে,
বৃষ্টির ধোঁয়ায় মিশে যাবে
একটা নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস।
তখন কেউ লম্বা এক দীর্ঘশ্বাসে বলবে,
গাছ কাটাটা একটু বেশি হয়ে গেছে হয়তো!
তৃষ্ণার্ত গলায় কেউ বলবে,
কয়েকটা নদী বাঁচিয়ে রাখা যেতই!

আমি দাঁড়িয়ে আছি, নুয়ে আসা এক গাছের ছায়ায়,
এই অপরাধের বাইরে,একটা কবিতার ভিতর।
আমি লিখে রাখছি, নিষিদ্ধ সেসব শোকের ধ্বনি।

তবু মানুষ বলে বেড়ায় আধুনিক সভ্যতার মহাকাব্য!
অথচ, এ মানুষেরাই ধ্বংসের বাহক।


০৬-০৮-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026