ময়মনসিংহ
- ফারহান নূর শান্ত

মেঘের দেয়াল থেকে উঁকি দেয় রোদ,
আলগোছে ছুঁয়ে যায় বিবর্ণ দুপুর।
চোখে নেই রোদচশমা,
তবু আলোয় ভেসে ওঠে রঙের গোপন মানচিত্র।

এ শহর ঘেরা কোলাহল, কংক্রিটের দেয়াল,
তার মাঝেই ব্রহ্মপুত্র বহমান।
জানিয়ে দেয় কেমন করে
ধুয়ে নিতে হয় জীবনের প্রতিদিনের ক্লান্তি।

পার্কের কচি সবুজ ঘাসে,
ছড়িয়ে থাকে আলো, মৈমনসিংহ গীতিকার সুর।
আমি শুনি বইয়ের ভাঁজ থেকে,
শব্দেরা জেগে ওঠে, গাছের ছায়ার আড়ালে।

নদের বুক থেকে উঠে আসে,
একটু উষ্ণ হাওয়া।
ভেসে আসে দূরের গান,
আড্ডা-ছায়ায় বাঁধা হাসি আর অনন্ত গল্প।

চায়ের সাথে ঝড় ওঠে গিটারের সুরে,
স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীর কন্ঠ
যেন সময়ের সেরা মুহূর্তের প্রতিধ্বনি।

প্রকৃতি এখানে শুধু দৃশ্য নয়,
সে যেন স্মৃতির দরজা খোলে।
নৌকাভ্রমণ, ঝালমুড়ি আর আচারের স্বাদ,
সাহিত্যের পাতায় ছাপা, ভালোবাসা আর বিদায়ের মেলবন্ধন।

দূরে নদের ওপাড়ে কাশবনের ফাঁকে
শিশুরা ঘুড়ি উড়ায়।
রাস্তায় কাঁধে করে কেউ কেউ বিক্রি করছে,
বাহারি রঙের হাওয়াই মিঠাই।

আমরা খুঁজে বেড়াই হারানো দিনলিপি,
জমিয়ে রাখি, টুকরো মুহূর্তদের।
যেন খামে ভরা হলুদ চিঠি,
একদিন আবার খুলে দেখবো, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে বসে।

কখনও মনে হয়
এই নদ, এই শহর, এই পার্ক
আসলে আমার ভেতরেরই প্রতিচ্ছবি।

প্রকৃতি আমাকে জানায় আমি কে!
আমার কবিতার শব্দে লুকিয়ে থাকে
অসংখ্য ভোর, অসংখ্য ভাব।
প্রতিটি ভাবই যেন,
এক অনন্ত উদাস ব্রহ্মপুত্রের স্রোত।

আমি কেবল আমি নই,
আমি ময়মনসিংহ, আমি ব্রহ্মপুত্র, আমি স্মৃতি, আমিই কবিতা।
যেন আমাকে লিখে যায় প্রকৃতি নিজেই।

(৩৫০ তম কবিতা)


২০-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026