দো'তলা বাড়ি
- ফারহান নূর শান্ত

তারপর,
একদিন একটা পুরোনো দো'তলা বাড়ি ভাড়াটিয়া খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে।
অলিগলি, রাস্তার মোড়ে, স্কুল কিংবা যান্ত্রিক শহরের বুকজুড়ে সে হেঁটে বেড়ায়।

দো'তলা বাড়িটা রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের কাছে এসে জিজ্ঞেস করে-
“তোমার গলায় ঝোলানো, বাসা ভাড়া হবে বোর্ডের কাছে কেউ আসে না?
কেউ খোঁজে না আশ্রয় ?”

ল্যাম্পপোস্ট চুপ করে থাকে।
মোড়ের দেয়ালকে জিজ্ঞেস করে বাড়ি-
“কি গো, এখান দিয়ে আর কেউ আসে না আমার খোঁজ নিতে?”
দেয়ালও চুপ।

তখন দো'তলা বাড়িটার বুক ভারী হয়ে ওঠে।
কোনো এক বিষণ্ন একাগ্রতা গ্রাস করে তাকে,
তবু তার স্মৃতির আঙিনায় ভেসে ওঠে সবকিছু।

হৈচৈ, বাচ্চাদের দৌড়ঝাঁপ,
কলপাড়ে বাসনের টুংটাং,
রান্নাঘরে মায়ের রান্নার ঝাঁঝালো গন্ধ,
ছাদে শুকাতে দেয়া কাঁচা আম চুরি করে
ছোট্ট মেয়েটির দৌড়ে পালানো হাসি।

স্কুলফাঁকি দেয়া কিশোর রোজ রোজ বকুনি খেত,
কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো তাকে।
সিঁড়ি বেয়ে ঝংকার তোলা নূপুর পা,
ছাদের ঘরে আলতা-পায়ে বসে থাকা সেই নববধূ-
সবই তার মনে দাগ কেটে আছে।

বারান্দায় বসে থাকা পাগলাটে এক ছেলে,
প্রচুর বই পড়তো, রেডিওতে গান শুনতো,
হয়তো লিখতো কবিতা কিংবা গল্প।
ক্লাসিক্যাল গানে তার কণ্ঠ ভেসে আসতো বাতাসে।

সন্ধ্যের পর লোডশেডিং নামলে,
ওরা সবাই মিলে কুঁপি বাতির আলোছায়ায় খেলতো
হাত দিয়ে পাখি, হাতি, প্রজাপতি বানানো হতো ছায়ায়।
চায়ের কাপের পাশে গল্পের ঝড় উঠতো,
যেন পৃথিবীর সব সুখ তখন ওই বাড়ির বারান্দায় ভিড় করতো।

কিন্তু আজ?
দো'তলা বাড়িতে আর কেউ থাকে না।
শুধু সিঁড়িতে পড়ে আছে দু-জোড়া ছেঁড়া চটি,
খোকার ভাঙা লাটাইটা।
না বাজে বাসনের শব্দ, না বাজে রেডিওর গান।
কেউ আর কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকে না,
চায়ের সাথে ওঠে না খোশগল্পের ঝড়।

তাই প্রতিদিন গুমড়ে গুমড়ে মরে দো'তলা বাড়িটা।
সে খোঁজে, তাদের খোঁজে-
যারা একসময় তার বুকে আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলো,
কিছুদিন বেঁচে ছিলো, তারপর হারিয়ে গেছে।

সে কি তাদের পাবে?
হয়তো… হয়তো না।


২৪-০৯-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026