অদৃশ্য দূরত্ব
- ফারহান নূর শান্ত
তুমি জানো,
সময় এখন বালির মতো।
আঙুলের ফাঁক গলে নামছে তা,
আমরা দাঁড়িয়ে আছি দুদিক দুই পাড়ে,
একই নদী, অথচ তার পানির রঙ আলাদা।
যে সন্ধ্যায় শেষবার দেখা হয়েছিলো ,
তোমার চোখে আলো ছিলো, কিন্তু আমি তা দেখিনি।
ভাবতে পারো সাহস করিনি দেখার।
এখনো মাঝে মাঝে ভাবি,
তুমি কি এখনো চুল বাঁধো বাম কানে সোনার ক্লিপে?
না কি সময় বদলে দিয়েছে
তোমার সাজের ধরণ, হাসির উচ্চারণ, চুড়ির শব্দ?
আমাদের মধ্যে দূরত্বটা খানিক অদৃশ্য,
তবু বেজায় ভারী।
যেন একটা অচল ট্রেনের ভেতর,
চুপ করে বসে থাকা দুটি ভাঙা জানালা।
বাইরে আলো ঝলমলে,
ভেতরে কেবল বাতাসের ভাঙা ভাঙা শব্দ।
তুমি আমি,
দুজনই সময়ের দুটি অসমাপ্ত বাক্য,
যাদের মাঝে কোনো সংযোগ শব্দ বসেনি।
আচ্ছা তোমার শহরে কি,
এখনো হঠাৎ বৃষ্টি নামে?
এখানে তো নামে, কিন্তু গন্ধ আসে না
মাটির, শরীরের, কিংবা অপেক্ষার।
কেবল হাওয়ায় ভেসে আসে,
তোমার মতো নামহীন সুরে।
আমি মাঝে মাঝে লিখি তোমাকে,
কাগজে নয়, কাঁচা ঘুমের ভিতর।
সেখানে অক্ষরগুলো জেগে থাকে,
কিন্তু ডাকবাক্স খুঁজে পাই না।
স্বপ্নে তুমি বলো - বিলম্বিত দেখা মানে, অদৃশ্য দূরত্বের চর্চা।
তুমি হেসে ওঠো,
আমি ঘুম ছেড়ে উঠি।
জানালার বাইরে ভোরের আলো,
আরো একদিন, যেখানে তুমি নেই,
তবু আছো যেন, একটু অস্পষ্টভাবে।
আমাদের না-বলা কথাগুলো,
এখন শহরের ট্রাফিক লাইটের মতো।
সবুজ হয়, লাল হয়,কিন্তু কেউ পা বাড়ায় না।
শব্দ, নীরবতা, ব্যস্ততা - সব একসঙ্গে,
আমাদের মধ্যে একটা দেয়াল তৈরি করে চলেছে।
একদিন হয়তো দেখা হবে আবার,
একটা ভিড় বাসের ভিতর, বা কোনো বইয়ের দোকানে।
তুমি তাকাবে আমার দিকে, আমি ভাববো, “এই তো সে”
তারপর চোখ সরিয়ে নেবো।
কারণ দূরত্বেরও একটা কোমল সৌন্দর্য আছে,
যেটা স্পর্শ করলেই ভেঙে যায়।
১৭-১০-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।