জাল বোনার স্মৃতি
- ফারহান নূর শান্ত
শৈশবের স্মৃতিগুলোর পাতা উল্টালে,
ধীরে ধীরে খুলে যায় সব।
দাদা রোজ,
ভোরের রোদে বাঁশের চেয়ারে গল্প সাজাতো।
বীজধান যেন তাঁর কাছে মুক্তার দানা।
তাঁর হাতের তৈরী মাথাল,
কুলা, চালুন, ডালা, মাছ ধরার চাঁই,
চাটাই, মই—
সেসবের বুকে জমে আছে তাঁর আঙুলের রেখা,
যেন তিনি কাঠ-পাতার মধ্যেই
স্বপ্ন বুনে রেখে গেছেন চুপিচুপি।
মৃদু বাতাসে দুলে ওঠা চাটাইয়ের শব্দে,
ধান ভাঙানোর ঠকঠক আওয়াজে,
পুকুরপাড়ের নরম গন্ধে—
তিনি থেকে যান অদৃশ্য উপস্থিতির মতো।
তিনি চলে যাবার পর,
তাঁর তৈরী জিনিসগুলো বলতে বসে গল্পগুলো।
সে গল্পের ভেতর থাকে,
এক চিলতে গ্রাম, একটা শালিক, বাড়ির পেছনের পুকুর।
আর থাকে আমাদের নাম লেখা,
অদৃশ্য কতো স্নেহ-দোয়া।
ভাবতে ভাবতে
চোখের কোণ ছলছল করে।
নতুন করে মনে পড়ে—
বর্ষার দিনে দাদার হাত ধরে,
ধানের জমিতে জমে থাকা পানিতে মাছ ধরার কথা,
বুকভরা হাসি নিয়ে হাঁটতে থাকা,
আর কাঁচা রাস্তায় আমাদের ছোট-বড় পায়ের ছাপ।
আম্মা যখন কড়া শাসন করতেন,
দাদা চলে যাবার পর,
আর কেউ আগলে নিতে আসেনি।
উঠোনে গাছের ছায়াটা মনে করিয়ে দেয়,
সেখানে তিনি নির্বিঘ্নে জাল বুনতেন আপন মনে।
তবু মনে হয়,
যেন তিনি কোথাও জাল বোনার সুতা কিনতে গিয়েছেন।
তবু মনে হয়,
তিনি দ্রুতই ফিরে আসবেন আবার।
২৬-১১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।