শব্দের রোগশয্যায় আমি শপ্ত
- প্রসূন গোস্বামী

মানুষের চোখের দিকে তাকাতে শেখো, এখন থেকে দৃষ্টিই হবে ভাষা
সরকার মেপে দিয়েছে শব্দের বরাদ্দ, দৈনিক একশো সাতষট্টি— তার বেশি নয় এক রত্তিও
বোবাদের রাজ্যে আজ সুদিন এলো, অথচ আমরা যারা বাচাল ছিলাম, আমাদের জিভে আজ তালা
আমি বেশ মানিয়ে নিয়েছি এই পরিমিতি, এই সংক্ষিপ্ত চিবুক নাড়ানো
ফোন বাজলে আর ‘হ্যালো’ বলি না, নিস্তব্ধতা যেন এক প্রাচীন পাহাড়ের গুহা
রেস্তোরাঁয় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিই ঝোল-ভাত, শব্দ খরচ করা মানেই তো রক্তক্ষরণ

মাঝরাতে যখন চাঁদটা একটা ভাঙা আয়নার মতো ঝুলে থাকে আকাশে
আমি ফোন করি বহুদূরে থাকা সেই মানবীকে, যার চোখের পাতায় আমার অর্ধেক পৃথিবী
গর্ব করে বলি— “শোনো, আজ মাত্র উনষাটটি শব্দ খরচ করেছি সারাদিন”
বাকি সব তোমার জন্য জমিয়ে রেখেছি, যেমন কৃষক জমিয়ে রাখে বর্ষার প্রথম বীজ
ওপার থেকে কোনো সাড়া আসে না, নীরবতা যেন এক গভীর কুয়ো
বুঝি যে সে আজ বড় বেশি খরচ করে ফেলেছে তার বরাদ্দ, হয়তো বাজারে কিংবা মিছিলে

তখন আমি অন্ধকারের গায়ে হেলান দিয়ে খুব ধীরে ধীরে বলি— “ভালোবাসি”
একবার নয়, দুবার নয়, ঠিক বত্রিশ পূর্ণ এক-তৃতীয়াংশ বার
এই ভগ্নাংশটুকু আমার বিকেলের শেষ বিড়িটির ধোঁয়ার মতো হাওয়ায় ভাসে
তারপর আমরা দুজনে চুপচাপ বসে থাকি ফোনের দুই প্রান্তে
শব্দ ফুরিয়েছে, কিন্তু ফুরোয়নি আমাদের আদিম সেই ফুসফুসের টান
আমরা শুধু একে অপরের শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ শুনি— যেন দুটো বাঘ অন্ধকারে ঘ্রাণ নিচ্ছে আগামীর


২৯-১২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026