বিধ্বস্ত বলাকা
- সালেহা বড়লস্কর - বলাকারা চিরদিন ওড়ে
(১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে যারা নীড়হারা হয়েছেন তাদেরকে উৎসর্গ করলাম আমার এ কবিতাটি)
আমি এক বিধ্বস্ত বলাকা
ঝড়ের দাপটে নীড়হারা
বুকে বিদ্ধ জলন্ত শলাকা
শতাব্দীর ঝড়ে দিশেহারা।
হাজার বছর আগে
জন্মেছিনু শিশির সিক্ত প্রভাতে
উজ্জ্বল স্বাধীন গুলবাগে।
আমার নীড়ের বিচ্ছুরিত আলোকে
হীরা মণি মুক্তার চাকচিক্যে
সাগর পারের বলাকারা চমকিত।
পালে পালে দলে দলে বলাকারা এলো উড়ে।
জবর দখল করলো আমার নীড়।
তারপর………………তারপর
একদিন আমার নীড় ভেঙ্গে করলো টুকরো টুকরো
ফিরে গেল আপনার নীড়ে।
আমি ছিটকে পড়লাম সুরমার ধারে
বিদেশী হলাম আমারই ভগ্ন নীড়ে।
কুটিল ভ্রুকুটি আর ঘৃণার দৃষ্টি
এ কোন বালাই রেফিউজি।
“যা যা যা তুই ফিরে যা
তোর নাই কি ঠিকানা”?
তারপর ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে
এসে পড়ি সাগর পাড়ে।
আবারো সেই ঘৃণিত দৃষ্টি
আমার ডানায় বাদামীর ঝলক।
আবারো নূতন উপাধি ইমিগ্র্যান্ট
আমাকে ঘৃণা করে সেই বলাকারা
যারা করেছিল আমায় নীড়হারা।
যারা জবর দখল করেছিল আমার নীড়
যারা ভেঙ্গেছিল আমার নীড়।
আমার ডানায় সেটে দেওয়া হলো
“রেফিউজি ইমিগ্র্যান্ট”
আমি যেন এক ঘৃণিত জীব
যেন করুণার পাত্র।
“যা যা যা তুই দূরে চলে যা
তোর নাই কি কোন ঠিকানা”?
আমি এক বিধ্বস্ত বলাকা
ঝড়ের দাপটে নীড়হারা
বুকে বিদ্ধ জলন্ত শলাকা
শতাব্দীর ঝড়ে দিশাহারা।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।