একটি খুব ছোট সংশোধনী
- প্রসূন গোস্বামী

আকাশটা নীলই ছিল বোধ হয়,
নাকি ওখানেও রক্তের ছিটে লেগে কালচে হয়ে গিয়েছিল—
সে খোঁজ নেওয়ার লোক এখন কম।

একজন চশমা পরা লোক বলল,
“গণহত্যা? না না, ভুল বলছেন দাদা।
ইরানে কোনো গণহত্যা হয়নি।”

আমি একটু অবাক হয়ে তাকালাম।
রাস্তার ধারের চায়ের দোকানের কেটলিটা তখন ফুসছে,
ঠিক যেমন ফোসে মানুষের জেদ।

লোকটা পকেট থেকে একটা বিড়ি বার করে খুব নির্বিকার মুখে বলল,
“ওখানে তো সব কাফের মরেছে।
মানুষ মরলে তবে তো হত্যা, আর সংখ্যায় মরলে গণহত্যা—
কাফের মরলে তো ওটা স্রেফ একটা বিসর্জন।”

আমি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভাবলাম,
ধর্মতত্ত্ব বড় অদ্ভুত জিনিস!
বুলেটের গায়ে তো আর ‘কাফের’ লেখা থাকে না,
কিন্তু লাশের ওপর একটা লেবেল সেঁটে দিলেই
কান্নার জলটাও কেমন জলরঙের মতো হালকা হয়ে যায়।

বাতাসটা আজ বড্ড ভারী,
হয়তো প্রচুর ‘অ-মানুষের’ আত্মা ভিড় করে আছে আশেপাশে।
আমি আর কথা বাড়ালাম না,
পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম—আমার পরিচয়পত্রটা ঠিক আছে কি না।

যদি কোনোদিন বিসর্জন দিতে হয়,
অন্তত লেবেলটা যেন ঠিকঠাক থাকে।


২৬-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026