স্মৃতি
- সালেহা বড়লস্কর - বলাকারা চিরদিন ওড়ে
সেদিন শিশিরে শিশিরে ঝরেছিল কান্না
নক্ষত্রের রুপালীচ্ছটায়, তন্দ্রাহারা বেদনার বন্যা।
চাঁদের বুকে এক ঝাঁক কালো অমানিশা
বিদীর্ণ পৃথিবী বেদনার দাহে হারালো দিশা।
একখণ্ড আঁধার ঢেকে দিল দীপ্ত সূর্যরশ্মিকে
উতরোল কান্না ধ্বনিত দিকে দিকে।
ঊনিশ শত ষাটষট্টির বিশে ডিসেম্বরে
সূর্য রশ্মি ঢোকে নাই আমাদের ঘরে
আমার পিতার সাজানো লিভিং রুম
কলরবহীন নিরব নিঝুম।
কুশন স্তব্ধ বড় চেয়ারটা পড়ে আছে,
চিরনিদ্রায় শায়িত তিনি নীচে,
মেঝেতে পড়ে আছে লাশ।
এ ঘরে সমবেত হত পিতার ছাত্ররা
এদের কলরবে মুখরিত হত ধরা।
গদি আঁটা আসনে বসেছ, বাবা তুমি
এদৃশ্য কখনো ভুলিতে পারিনা আমি।
তারা থেকে খসে পড়া দীপ্ত আঁখি দুটি
যেন নীল দিগন্তে চাঁদের হাসি উঠতো ফুটি।
চোখে আঁটা চশমা তোমার
অবারিত করেছে বিদ্যার দ্বার।
ছাত্রদের শির শ্রদ্ধায় অবনত
ভালবেসেছিলে তুমি তাহাদের কত।
আজ সব স্তব্ধ নীরব।
ধূলায় লুণ্ঠিত তব শব।
তোমাকে দেখেছি সদাই বসেছ গদি আঁটা চেয়ারে
মেঝেতে তব শব আজো কাঁদায় আমারে।
এ দৃশ্য দেখেছি ১৯৬৭ সালে..................তারপর
৬৮
৬৯
৭০
৮০
৯০
২০০০ তারপর
তারপর
কতযুগ পরে ২০১০ সালে
জীবন্ত এ স্মৃতি ভুলিনি, ভুলব না কোনকালে।
ভুলব না, ভুলব না আমি
স্মরণ রহিবে দিবস যামি।।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।