জন্মদিন
- প্রসূন গোস্বামী

- আমার জন্মদিন, অথচ আকাশটা আজ কেমন ছাইরঙা! একটা রোদ্দুরও পাঠালে না?
- রোদ্দুর তো জমানো আছে খামের ভেতর। খুলে দেখলেই তো পারতে!
- মিথ্যে বোলো না। খামে তো কেবল একটা নীলরঙা পালক আর তোমার সেই ভাঙাচোরা হাতের লেখা।
- ওই পালকটাই তো আসলে সকালের প্রথম রোদ। ওটা যখন তোমার চিবুক ছুঁয়ে নামবে, দেখবে অন্ধকার ঘরেও এক চিলতে বারান্দা তৈরি হয়েছে।

- তুমি বড্ড বেশি রূপক বোঝো। একটা জ্যান্ত উপহার দিতে পারতে না? ধরো, একমুঠো চন্দ্রমল্লিকা?
- ওগুলো তো শুকিয়ে যাবে। আমি বরং তোমার আয়নার ভেতরে একটা দীর্ঘস্থায়ী বসন্ত এঁকে দিয়েছি। যখনই তাকাবে, দেখবে সাতাশ বছরের সেই মেয়েটা ঠিক চুলে কাঁটা গুঁজছে।
- সাতাশ? আজ তো আমার বত্রিশ পূর্ণ হলো!
- ওটা তো ক্যালেন্ডারের ভুল। আমার কাছে তোমার বয়স ঠিক সেখানেই থেমে আছে, যেখানে প্রথমবার বৃষ্টিভেজা বিকেলে তুমি আমায় বলতে ভুলে গিয়েছিলে— ‘ভালোবাসি’।

- (একটু চুপ থেকে) কবিদের সাথে কথা বলাই দায়। তোমরা শূন্য হাতেও পাহাড় সাজাতে পারো।
- শূন্য হাত বলেই তো সেখানে পুরো আকাশটা ধরা যায়। এই নাও, তোমার জন্মদিনের জন্য একটা আস্ত আস্তিন-ভরা সমুদ্র আনলাম। নোনা স্বাদ লাগলে হেসো না, ওটা আসলে আমার দীর্ঘশ্বাসের রূপান্তর।

- আচ্ছা, সামনের বছর কী দেবে?
- সামনের বছর তো অনেক দেরি। চলো, আপাতত এই মুহূর্তটার গায়ে একটা নক্ষত্র এঁকে রাখি। যাতে মাঝরাতে তোমার ঘুম ভাঙলে তুমি বুঝতে পারো— কেউ একজন জেগে আছে, শুধু তোমার আয়ু বাড়ানোর প্রার্থনায়।


০৩-০২-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।