ঠাকুরহাট কবিরাজ বাড়ি ফ য় জু ল ম হী
- ফয়জুল মহী
পুরাতন বটগাছের নিচে বেশ কয়েকটা হিন্দু চিতা । ছোট ছোট খেজুর গাছের ঢাল পড়ে অদৃশ্য হয়ে আছে। তারিখ ও সাল শেওলায় ডাকা পড়া। একটু দুরেই মুসলিম একটা নতুন কবর , দুই/তিন মাসের পুরাতন হবে। সবজি জমিনটা আকারে খুব ছোট হলেও মরিচ, টমেটো ও ফুলকপির চাষ করেছে সৌখিন কৃষকটা। সরু রাস্তা এসে মিলেছে বড় একটা পুকুর পাড়ের সাথে। মস্তবড় পুকুর ঘাট দেখে মনে হয় বনেদি এক বাড়ি যার সামনে রয়েছে বিশাল এক সুপারি বাগান।
মাতু ভুঁইয়া নিজের বসত বাড়ি বিক্রী করে চার সন্তান নিয়ে ভুঁইয়া বাড়ি হতে কয়েক কিলোমিটার দুরে বিশাল এক হিন্দু বাড়ি ক্রয় করে চলে যায়। সেই বাড়ির দখিনেই হলো ঠাকুরহাট। আর পূর্ব পাশে জেলে বাড়ি, উত্তরে পানি আর পানি উপরে ভাসে ধানের শীষ। আলগা আলগা হিন্দু বাড়িগুলির বড় কোনো রাস্তা নাই ,অনেক সরু ও চিকন চলার পথ । কয়েকটা ভাঙ্গা ছোট ছোট চা দোকান ও একটা প্রাথমিক বিদ্যালয় যার পশ্চিম পাশে পুকুরটার পাড় ভেঙ্গে জীর্ণশীর্ণ অবস্থা। কিন্তু সব বাড়িতে আছে গোয়ালঘর ভরা বড় বড় গাভী ও ষাড়, জমিন ভরা নানারকম সবজির চাষ।
শুনেছি মাতু ভুঁইয়া সস্তা পেয়ে এই কবিরাজ বাড়ি কিনেছে, কারণ যুদ্ধের পর হরিপদ কবিরাজ নিজ ইচ্ছায় দেশ ত্যাগ করে। পরে উনার আত্মীয়স্বজন এই বাড়ি বিক্রী করে মাতু ভুঁইয়ার কাছে। তবে মাতু ভুঁইয়া উনার মা বাপকে পুরাতন বাড়িতেই নিঃস্বভাবে রেখে যায়। মাতু ভুঁইয়া এখন আর ভুঁইয়া নয় গ্রামের ছোট বড় সবার কাছে কবিরাজ নামে পরিচিত । দিন যায়, মাস যায় ঘুরে যায় বছর। আম জাম কাঁঠাল নারিকেল আর সুপারি বিক্রীর টাকায় সুন্দর ও সচ্ছলতায় চলে মাতু ভুঁইয়ার সংসার দেখলে মনে হয় যেনো সুখের হাট।
হঠাৎ একদিন মাতু ভুঁইয়া অসুখে পড়ে শয্যাশায়ী হয়। শিক্ষাহীন চার ছেলের বড় দুইটা বিয়ে করে আলাদাভাবে সংসারী আগেই। তিন নম্বরটা আস্তে আস্তে শুরু করে কবিরাজি। মানুষকে কখনো তেল পড়া, কখনো পানি পড়া, আবার কখনো তাবিজ তুমার ঝাঁড়ফুক দিতে থাকে। ধীরে ধীরে আসতে থাকে অল্প অল্প রোজগার । তবে বছর ঘুরতে প্রতিষ্ঠা পায় সুনাম ও অর্জন। এখন সে মাস্টার কবিরাজ। মাতু ভুঁইয়া বিছানায় মরণ মরণ অবস্থা কিন্তু বড় ছেলেরা ফিরেও চায় না
বাকী ।
২৮-০২-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।