ঠাকুরহাট কবিরাজ বাড়ি
- ফয়জুল মহী

পশ্চিম দক্ষিণী বড় মাটির ঘরটায় ছোট দুই ছেলে থাকে মা নিয়ে। উত্তরে পূর্ব ও পশ্চিমের দো‘ছালা ছোট ছোট পুরাতন টিনের ভাঙ্গা বেড়ার ঘরগুলি বড় ও মেজ ছেলের। দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে বড় ছেলের সংসার উনি আবার মানুষের কাছে চৌধুরী নামে অধিক পরিচিত । শেখ আহাম্মদ মেজো ছেলে যার চারটা মেয়ে নিয়ে কোনোমতে চলে । মাস্টার কয়েকজন হিন্দু বাচ্চা পড়িয়ে এবং পানি পড়া ও তাবিজ বিক্রী করে যাহা রোজগার করে তাতেই ছোট ভাই আর মাকে নিয়ে দিন চলে যায়। ছোট দুইজনের যথেষ্ট ফসলি জমি আছে কারণ মাতু ভুঁইয়া সমস্ত সহায় সম্বল তাদের দিয়ে গিয়েছেন।

খেয়ে না খেয়ে শেখ আহাম্মদের মেয়েরা একদিন বড় হয়। একটা ছেলে সন্তানের আশায় চারটা মেয়ের বাবা হয়ে শেখ আহাম্মদ এখন তাদের দিতে পারে না পরনের কাপড় এবং দিতে পারে না পেটের খোরাক। মানুষের ফিতরা যাকাতই এক মাত্র ভরসা তাদের। এই টাকা জমিয়ে মেয়েরা হাতের কাজ করে ( নকশী কাঁথা ও শীতল পাটি বানায় )। সপ্তাহে দুই দিন ছোট মেয়ে ও বাপ মিলে কাঁধে করে শীতল পাটি হাটে নিয়ে বিক্রী করে। আর বড় মেয়েরা হিন্দু বাড়ি বাড়ি বিক্রী করে নকশী কাঁথা। এতেই ডাল চাল ও মা বাপের ঔষধ কিনতে কষ্টের সীমা থাকে না। তবুও চলছে তবুও চলতে হয় । কিন্তু একদিন শেখ আহম্মদ দুনিয়া হতে চীর বিদায় হয়। চল্লিশ দিন পার না হতেই মেয়েরাও হারিয়ে যায়, কোথায়? আজও অজানা।

চৌধুরীর ছেলেরা রোজগার করে টুকটাক। মেয়ে বিয়ে দিয়েছে ইজ্জতদার লোকের কাছে। তাই উনি চৌধুরীর ভাব ভাব নিয়েই চলে। চা দোকানে পায়ের উপর পা তুলে আবুল বিড়িতে সুখটান দেয়। ঠাকুর হাট গিয়ে লোকজনকে বলে বাপ জায়গা জমির ভাগ না দিয়ে অন্যায় করছে। লোকজনও চৌধুরীকে ছেড়ে দেয় না বলে আরে মিয়া বাপ জিন্দা থাকতে একদিন একবেলা ভাত খেতে দাও নাই এখন আবার জায়গা জমির ভাগ চাও।

ধুমধাম করে চৌধুরী বড় ছেলের বিয়ে দেয়। মেয়েটা বাকপ্রতিবন্ধী তাই চৌধুরীর বড় ছেলে হোনার কাছে বিয়ে দিয়ে মেয়েপক্ষ পাত্রকে বিদেশে পাঠাবে প্রতিশ্রুতি দেয়। এমন প্রস্তাব পেয়ে হোনা আর বাবা সাতপাঁচ ভেবে সময় নষ্ট না করে সাথে সাথেই লুফে নেয়। এতে চৌধুরীর বাকবাকুম ভাবটা আরো বাড়ে। বিয়ের দুই মাস পর হোনা দুবাই চলে যায় আর চৌধুরী পাক্কা চৌধুরী হয়ে আবুল বিড়ি টানাটা আরো বাড়ায়।
(বাকী)


১২-০৩-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।