জীবন এক টুকরা ফসলি জমিন
- ফয়জুল মহী

এক ইঞ্জিনিয়ার বাবা তাঁর টুকটুকে সুন্দর মেয়ের কপালে আদর দিয়ে স্ত্রীকে বলে “হিরা মতি নয় আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো বেলী ফুলের মালা সাজিয়ে”।
বিছানা গুছাইতে গুছাইতে হোসনা বেগমের এই গল্প মনে পড়ে তাই নিজে নিজে হাসে।
ঠিক এই সময় মোবাইল বেজে উঠে, মজিদ মিয়া ফোন করে হোসনা বেগমকে। চাপা কষ্ট সংবরণ করে হোসনা বেগম মজিদ মিয়াকে শুনায় এই গল্প। নীরব হয়ে যায় মজিদ মিয়া, ছোট ছেলের কপালে আলতোভাবে আদর দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে হোসনা বেগম।

সত্যিকারের সম্পর্ক একটা ভালো বইয়ের মতো, যতই পুরানো হোক না তার কোনো শব্দ বদলায় না - মজিদ মিয়া বউকে শান্তনা দেয়।
ভবিষ্যৎটা সুন্দর করার আশায়, নিজের পরিচিত আকাশ ছেড়ে বিদেশে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, জীবনটা গুছিয়ে যাবে, স্বপ্নগুলো রঙিন হবে। আজ মনে হয়, সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়েই নিজের বর্তমানটাকেই ঝাপসা বানিয়ে ফেলেছি।

এখানে দিনগুলো শুধু কাজের, রাতগুলো শুধু ক্লান্তির। নিজের মানুষ নেই, মন খুলে কথা বলার মতো কেউ নেই। হাসি আছে, সেটা যেন শুধু মুখে আটকে থাকা একটা অভ্যাস। ভেতরে ভেতরে কত কিছু জমে আছে কেউ জানে না, কেউ বুঝতেও চায় না। এমন করে বেঁচে এই লড়াইটা ভবিষ্যতের জন্য। আজকের এই সয়মটা আর কোনোদিন হয়তো ফিরে পাবো না ।

তবুও থামা যায় না। কারণ পেছনে ফিরে যাওয়ার পথটা এখন আর সহজ না। দায়িত্ব, স্বপ্ন, পরিবারের মুখ,সবকিছুই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করে। একদিন এই কষ্টগুলোরই মূল্য পাওয়া যাবে। হয়তো একদিন এই ঝাপসা সময়গুলোই জীবনের সবচেয়ে গর্বের গল্প হয়ে দাঁড়াবে।
একটি ফুল দুবার ফোটে না, আর জীবনও দ্বিতীয়বার পাওয়া যায় না তা সত্য। জীবনে হাজারো মানুষের দেখা মিলবে, তোমার মত এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে এটাও সত্য , তুমিই আমাকে সর্বান্তঃকরণ দিয়ে ভালোবাসো।

থাক থাক, এতো সাহিত্য রচনা করতে হবে না। এত সুখ কিনতে গিয়ে আমি হারিয়ছি তোমার বুকের উষ্ণতা, হোসনা বেগম দমক দিয়ে মজিদ মিয়াকে থামায়। ছেলের দিকে তাকিয়ে হোসনা বেগম নিজে নিজে বলে ভাগ্যিস আমার মেয়ে নাই,দুইটাই ছেলে।

গল্পঃ প্রবাস(১৩)


২৩-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026