বিবর্ণ ঈদের হাসি
- সালেহা বড়লস্কর - বলাকারা চিরদিন ওড়ে

ঘুরি নিউমার্কেটের চারপাশে,
ঘুরি ভিক্ষার ঝুলিটি হাতে নিয়ে,
বিবিসাহেব আর সাহেবরা ঈদের
সওদায় ব্যস্ত, আকাশে উদিল
ঈদের চাঁদ, চৌদিকে ফাঁদিল
মোহ ফাঁদ, রুশনাই রুশনাই
চৌদিক হলো রুশনাই, শুধু
হাঘরে, হাভাতের ভাত নাই, ভাত নাই।
নিউমার্কেটের চারপাশ ঘিরে
সাদা, কালো, লাল গাড়ির সারি
ধুম পড়েছে কেনার কাতান, বেনারসী শাড়ির।
হীরা, মুক্তা আর গজমতির
হার কেনার ধুম, মহাধুম
স্বর্ণকারের বর্ণ হলো স্বর্ণ
তাতিয়া উঠিছে কালো টাকার বর্ণ।

জড়োয়া গহনা আর কাতানে মোড়া
বিবিসাহেব, সওদা শেষে রক্তরাঙ্গা
গাড়ির গায়ে দিয়েছেন হেলান।
বাবাসাহেব, বিবিসাহেব, আমি
ভুখাফাকা আছি বাড়িয়ে দিলাম
আমার শূন্য ভিক্ষার ঝুলি
বিবিসাহেব সোনামুখে এক পোঁচ
কালি মাখিল কে যেন, “মরণ
তাড়াও দেখি এ অলস বেইমানটাকে,’’
সাহেব তেরিয়া হাঁকিলেন “হট
বেটা হট ইহাছে” বেকায়দায়
দিলেন পিঠে মহাউল্লাসে একটি
লাথি বসিয়ে।
ধুম মহাধুম, ঈদের ধুম
নাই ঘুম, নাই ঘুম, নাই ঘুম।
মোরগ পোলাও, কোর্মা, কোপ্তা, ফিরনী
টেবিলের পাশে সাজানো মোহন রূপিণী গিন্নী।

শুধু আমার এ শূন্য ঝুলি
দেখে বাবু অবহেলে যায় দলি
ঈদ শুধু তোমাদের, শুধু
শাসকগোষ্ঠীর, শোষকগোষ্ঠীর,
কালবাজারী, বেইমান, মুনাফাখোরের।
লক্ষ লক্ষ আমি ক্ষুধার হাহাকারে
শূন্য ভিক্ষার ঝুলি মেলে ধরি।
তুমি দলিত মথিত করে যাও
লক্ষ আমার দীর্ঘ হাহুতাশ।
হে শাসক! আজ জিজ্ঞাসা করি
তোমার কর্তব্য পালন করেছো কি?
নিরন্ন অভুক্তের মুখে ফুটিয়েছ কি
ঈদের হাসি? জিজ্ঞাসা করি
হে শাসক উত্তর দাও, তুমি উত্তর দাও?
তুমি কি দেখনি ঈদের চাঁদের
বিশীর্ণ ম্লান হাসি, বেদনায়
নীল হয়ে ঝরেছে ঈদের হাসি?

ঈদ শুধু তোমাদের, ঈদ শুধু ভুঁড়িওয়ালাদের,
ঈদ শুধু শাসকদের, শুধু শোষকদের,
লক্ষ লক্ষ আমি ব্যর্থ হাহাকারে শূন্য ঝুলি
হাতে, মুখ থুবড়ে পড়ে থাকি,
বিবর্ণ ঈদের হাসি, বিবর্ণ বাংলাদেশ
বিবর্ণ পৃথিবী।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026