শরৎ
- বেলাল হোসেন খাঁন
চকচকে ঝকঝকে নীল আকাশে
উড়ছে সাফেদ মেঘের ভেলা,
সূয্যিমামা পশ্চিমে ঝুঁকতেই
বকের সারি গগনে করে খেলা।
বাগানে দেখি জুঁই-চ্যামেলি
হাসনাহেনা আনন্দে আত্মহারা,
এলোমেলো নির্মল বাতাসে
কবি মনগুলো হয় পড়ে সর্বহারা।
বিলে-ঝিলে পদ্ম-শাপলার সমাহার
মাঠে দোলে শুভ্র কাশফুল,
কোন কিছুতেই যেন মন বসে না
সবকিছুই যেন ভরা ভুল।
দিনের আলো ক্ষীণ হয়ে আসে
নিশি আঁধার যেন শেষ হবার না,
ঝুপঝাপ বৃষ্টির অবসান ঘটিয়ে
কম্বলহীন মিষ্টি শীতের অবতারণা।
প্রকৃতির কাছে শুধালাম আজ
সবকিছু কেন এমন নির্মল,
ধমকের সুরে জবাব পড়নি কি কভু
রবি, নজরুল কিংবা বীরবল।
দিগন্ত জোড়া সবুজের সমারোহে
গাছপালা সবুজ পত্রবিহীন,
যে রবী ঠাকুরের কাব্য রচনায়
অবদান রেখেছে সীমাহীন।
গাছে গাছে তাল পেকে ঝুলছে
বাড়িতে হচ্ছে পিঠা-পুলি,
ক্ষেতে ক্ষেতে আমনের বেড়ে ওঠা
যেন শিল্পীর পরশ তুলি।
বর্ষার বিষণ্ন বিধুর নিঃসঙ্গতার পর
কে যেন এলো প্রকৃতির রঙ্গমঞ্চে,
নিশ্চয়ই ঋতুরানী শরৎ হবে সে
নতুবা পাগলা হাওয়ায় শেফালি কেন দুলছে?
কবিগুর ভাষায় শরৎ নাকি
রূপসী বাংলার নববধূ,
আমি তো দেখি শরৎ মানেই
মন মাতানো বৈরাগী কদু।
কত শত গুণের অধিকারী
জানে কি ঋতুরাণী শরৎ?
পুষ্প থেকে পাখ-পাখালি
যার প্রেমে পড়ে অনবরত।
১৮ই অক্টোবর ২০১৮ ইং। যুব উন্নয়ন কেন্দ্র, সোনাডাঙ্গা, খুলনা।
সত্যানুসন্ধানী
২৮-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।