ঈশ্বর খোঁজা
- হাসিব মহিউদ্দিন
আঁকিলেন পৃথ্বী যে'জন বসিয়া তাঁরে বলি ঈশ্বর,
তিনি ছাড়া আর তাঁহার সৃজন সবি জানি নশ্বর।
প্রাণের আকুতি কোথা;
যে'জন দিয়েছে প্রাণের বেদন খুঁজিনা তাঁহারে হোথা।
জগতের মোহ টানে প্রয়োজন টানেনা পরান বেগে;
ঈশ্বর খুঁজি তখনি যে বুঝি কি আছে পরানে লেগে।
ঈশ্বর খোঁজা ভার,
আমি ঈশ্বর নিজ কবিতার কেমনে বলিবো আর।
পৃথিবী দিলেন নিজের তাগিদে ঈশ্বর বুঝি তাই,
আমার চক্ষে ঈশ্বর খুঁজে আমার কবিতা পাই।
বোঝেনা আমার কথাগুলো আর অনেক কবিরা দেখি,
ভাবে কিবা আর লিখে গেছি আমি সবি বুঝি আঁকা মেকী।
নহে তাই মেকী আর,
প্রয়োজন আছে জানিবার প্রাণে হোক অকূলপাথার।
ফুলের গায়ের কাঁটা যদি তুমি নাইবা চিনিতে পারো,
ছুঁয়ে দিলে ফুল আঘাতে ঝরিবে তোমার রক্ত আরো।
আবার ফিরিয়া বলি আমি ফের চিনিতে হইবে ধরা,
আপনার সুখে মানুষ চিনিতে ঈশ্বর নিজ করা।
তাই ঈশ্বর আজো জাগেনা যে মানুষের মনে ফের,
মানুষ কেবলি স্বার্থের খোঁজে ঈশ্বর ডাকে ঢের।
পাও কি মানুষে আজ তুমি ভয় এক বিধাতার প্রতি,
দেখিবে ছুটিছে মসজিদ পানে করিয়া নিজের ক্ষতি।
কিসে ক্ষতি আর ভাই;
মসজিদ কিবা দেউলের ঘরে ঈশ্বর বসে নাই।
অথচ তাহারা মনে করে ফের দুনিয়ার পাপাচারে,
মসজিদে গেলে আসিবে বিধাতা ক্ষমা চায় বারেবারে।
আবার ফিরিয়া মসজিদ হতে করে চলে পাপাচার,
প্রাণের আকুতি মিশিয়া রয়েছে বোঝেনা প্রাণের ভার।
কেউ কেউ আছে দেখি;
আকাশের দিকে চেয়ে খোঁজে তাঁরে হৃদয় দেখেনা সেকি।
আবার দেখেছি প্রাণের উতলা ঈশ্বর প্রতি নাই,
অথচ পূজা কি ঈদ এলে ভাই তাহাদের দেখা পাই।
এই যেন হালচাল আজিকের মানুষের মনে দোলে
কেউ কেউ ফিরে ঈশ্বরবাদে নিজে প্রতিরোধ তোলে।
নাস্তিক তারে বলি;
জীবনের গানে ঈশ্বরবাদ তাদের নাহি উছলি।
তারা ভাবে শুধু প্রকৃতির খেলা এই পৃথ্বী সংসার,
অথচ দেখেনা সম্প্রসারণ আকাশের দিকে আর।
টানিছে কে আর তারে;
মানব সৃজন হয়নি এমনি এই জগতের ভারে।
যাই হোক ফিরে বলি আমি শুধু ঈশ্বর যে আবেগ,
বিবেকের তাড়া যোগ করে আসে করোনা তাঁহারে ত্যাগ।
গণিতের নীতি যদি ভেবে চলি তাঁহারে মেখেছি ফের,
যোগ দিলে বাড়ে বিয়োগে কি আর বাড়ে সম্পদ ঢের।
চাইনা মানুষ ভুলে যাক তাঁরে আপনার ঈশ্বর,
ছুটিয়া চলিছে পৃথিবীর কোলে সবে জানি নশ্বর।
সৃজন মহিমা গেয়ে চলি ফের আমি জানি কিবা সব,
যে'জন এঁকেছে আমার চক্ষে সকলি সে'জন রব।
তিনি যে জানেন সবি
আমার প্রাণের আকুতি মেখেছি আমার জগতকবি।
মনের কথাই বলে চলে কবি তাঁরে কেন ভুলে যায়,
সে কথা কবির মনে নাহি আসে কাব্যে পেলে যে সায়।
ফিরিয়া ফিরিয়া কিতাব পড়িয়া পাবে কি সে ঈশ্বর,
যদি না তোমার নিজের তাগিদ করেনা হৃদয়ে ভর।
ঈশ্বর আছে যারা ভাবে ফের প্রাণে;
তারাও দেখেছি খুঁজিয়া তাঁহারে চেয়ে রয় আসমানে।
অথচ মনের আলয়ের কোলে কেবা করে বসবাস,
পুরুষের মনে নারী প্রাণ দোলে নারীর উল্টো আশ।
কোথায় সে ঈশ্বর,
প্রাণের আকুতি কোথা মেখে চলে কোথা মাখে নিজ ঘর।
আমার কবির প্রাণে শুধু জাগে ঈশ্বর আছে এক,
দেখিনি তাঁহারে মনের মতন তবু আঁকি তাঁর রেখ।
সঞ্চয় প্রাণে করি নাই আমি আমার সঁচয় সে যে,
ফিরিয়া ফিরিয়া তাঁরে খোঁজ করি আমার আত্ম তেজে।
বিশ্বাসে আমি পেয়েছি যে ফল কবিতার খাতা মেলে;
আমি বিশ্বাসী কবিতা আসিছে ঈশ্বর কাছে এলে।
ফিরিবার পথে ফিরিয়া আবার খুঁজেছি যে তাঁরে বেগে,
সেখানেও তাঁরে পেয়েছি যে আমি আপনার সব ত্যাগে।
যাই হোক বলি ভাই;
ঈশ্বর আছে হৃদয়ের মাঝে আকাশের বুকে নাই।
আকাশে সকলি নির্জীব ছাড়া আর কোন প্রাণ কই;
পৃথিবীর কোলে মানুষ রয়েছে আমরা মানুষ নই!
বিধাতার কথা তাই জাগে ফের তকমা পেয়েছি সেরা,
তাই প্রাণে বাঁধি পৃথিবীর বুকে সুখের আপন ডেরা।
সেখানেও দেখি ঈশ্বরবাদে মানুষে বিভেদ লাগে,
কোথা ঈশ্বর প্রাণের আকুতি নাস্তিক প্রাণে জাগে।
প্রমাণ দেয়নি আজো নাহি কেউ ঈশ্বর মতবাদে,
উল্টো প্রমাণ করেছে কি কেউ নাহি ঈশ্বর সাধে।
তাই বলি ফের সেই উপকথা বিশ্বাসে মিলে সবি,
পেয়েছি সকলি বিশ্বাস করে হয়েছি আজকে কবি।
নই আমি সেই কবি;
যিনি এঁকেছেন পরম মায়ায় এই জগতের ছবি।
হতচ্ছাড়ার প্রাণ এঁকে চলি আবারো খুঁজে তত্ত্ব,
পশ্চিমে যদি রবি জাগে তবে লাগে কি খাঁটি সত্য।
জানি সূর্যটি উঠিবে সেথায় পূর্ব বলেছি তারে,
ঈশ্বরবাদে সেই কথা আমি বলে চলি বারেবারে।
আমার বিধাতা এক;
আজ আমি তাই আপনারে খুঁজি পেয়েছি প্রাণের রেখ।
থাকুক যতই মতবাদ আজ ঈশ্বর তবু আছে,
আমার কাব্যে আছে ঈশ্বর আমার মনের কাছে।
০৩-০৫-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।